নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জামায়াতের মহিলা কর্মীকে হেনস্তা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জামায়াতের মহিলা কর্মীকে হেনস্তা

মফস্বলডেস্ক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিজয়নগর এলাকায় মনোয়ারা বেগম নামের জামায়াতে ইসলামীর এক মহিলা কর্মীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে এ হেনস্তার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সর্বত্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াতের নারী কর্মী মনোয়ারা বেগম গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনি প্রচারকজে কাঠালি থেকে বিজয়নগর এলাকায় গেলে বিএনপি নেতা ও পূর্বপাড়ার বাদশা মিয়া বেপারীবাড়ির মৃত ছেরাজল হকের ছেলে মোশারফ হোসেন ও তার সহযোগী একই বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে সৈকত, জমাদারবাড়ির আবুল হাশেমের ছেলে আমুসহ একদল যুবক হেনস্তা করছে।

তারা মনোয়ারার হিজাব ও ওড়না ধরে টান দেয় এবং টেনে-হিঁচড়ে হেনস্তার চেষ্টা করে। তাদের এমন আচরণে মনোয়ারা বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পথচারীদের হস্তক্ষেপে তিনি কোনো মতে সেখান থেকে সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।

এদিকে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হলে সর্বত্র ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই দিন বিকেলে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডেও জসিম কমিশনারবাড়ির জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক সোনাইমুড়ীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সোনাইমুড়ী পৌরসভা জামায়াতের আমির আবদুল মতিন ও সেক্রেটারি ফজলুল হক সংবাদমাধ্যমে জানান, আমরা এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। জামায়াতের মহিলা নেত্রীরা যেখানেই যাচ্ছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের হেনস্তা ও লাঞ্ছিতের চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি। বিষয়টি ওপর মহলে জানিয়ে আমরা প্রতিবাদ সভা করেছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না, তবে তার জা নাসরিন আক্তার শুধু রাজনৈতিক কারণে মনোয়ারাকে হেনস্তা করা হয়েছে জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাংবাদিকের ফোনকল রিসিভ করেননি।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নাছরিন আক্তার সাংবাদিককে জানান, এমন একটি খবর আমরা পেয়েছি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156151