গাইবান্ধার সাঘাটায় নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলেও, এরই মধ্যে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়া ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পর বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ও অফিস সহকারী মো. আরিফ (৪০) শিশুটিকে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর মা সাঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, বিদ্যালয় থেকে দেরিতে ফেরার পর মেয়ের শরীরে ধুলাবালি ও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। হাঁটা-চলায় সমস্যা ও আতঙ্কিত আচরণ দেখে সন্দেহ হলে পরিবারের নারী সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা জানায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম খান জানান, পরিবার বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিক সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের নিয়ে থানায় গেলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিনহাজুল আবেদীন বলেন, তিনি ঘটনাটি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে বিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা লিখিত প্রতিবেদন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন জানান, ওই ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রাথমিক মেডিকেল প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156092