বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির দুর্গে জামায়াতের দখলের চেষ্টা, আওয়ামী সমর্থিত ভোটই ফ্যাক্টর
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গ বলে খ্যাত বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আসনটি নিজ দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রীয়া থাকলেও জয়লাভের জন্য আওয়ামীলীগ সমর্থিত ভোট বড় ফ্যাক্টর হবে বলে মহল মনে করছেন ভোটারেরা।
নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারনা লক্ষ্য করা গেলেও জাপার প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোনের প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচারনা তেমনটা জোড়ালো লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনে এমপি পদে বিএনপি মনোনীত ধানের শীর্ষের প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদার, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার এমপি প্রার্থী নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের, জাতীয়পার্টি মনোনীত লাঙ্গল মার্কার এমপি প্রার্থী শাহিনুল ইসলাম শাহিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী শাহাজাহান আলী তালুকদার প্রতিন্দন্দ্বিতায় মাঠে ময়দানে গণসংযোগ ও প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মুল প্রতিন্দন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
এই আসনে বিএনপি ধানের শীষ মার্কা নিয়ে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ততবারই তাদের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে শুধু ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক ভাবে অংশ নিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোফাজ্জল হক ২৯ হাজার ৫৩৬ ভোট পান। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ তালুকদার ৪০ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মজিদ তালুকদার ৬৫ হাজার ১৪০ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলেও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ছোলায়মান আলী ৩৫ হাজার ৯২৩ ভোট পান। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোন প্রার্থী ছিলনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের দলীয় সমর্থিত ভোট গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সংখ্যক আওয়ামীলীগ সমর্থিত ভোটারবৃন্দ তাদের পছন্দের দল ও প্রার্থীর পক্ষে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের কথাবার্তায় ধারনা করা যায়, তারাও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের দুপচাঁচিয়া গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার ইউনিয়নসহ সমগ্র দুপচাঁচিয়া ব্যাপি বহুসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী রয়েছে। এছাড়া আদমদীঘি উপজেলাতেও রয়েছে দলের অনেক নেতাকর্মী।
১৯৯১ সালের চেয়ে দলগত ভাবে তারা বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে দাবি করছেন। তাদের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হবেন বলে শতভাগ আশা প্রকাশ করছেন। অপরদিকে বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্ধী আব্দুল মহিত তালুকদার সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি পারিবারিক ভাবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা আব্দুল মজিদ তালুকদার পরপর ৩ বার এবং তার ভাই আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা পর পর ২ বার এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন।
সে কারণে বগুড়া-৩ আসনে তার পারিবারিক ইমেজ রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ বিএনপির সাথে তার পারিবারিক ইমেজ একত্র হলে ভোট ব্যাংক বৃদ্ধি পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। ধানের শীষের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হবেন বলে নেতাকর্মীরা শতভাগ আশাবাদি।
এদিকে আওয়ামী ঘরানার ভোটাররা ক্রমেই ভোটের দিকে সক্রিয় হচ্ছেন। তারা প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ ও তাদের দলের সাথে কিছুটা হলেও মিল রয়েছে এমন বিশ্লেষণ করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট দিবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আওয়ামীলীগ পন্থি ভোটারগণ যে দলের দিকে ভোট দিবেন সে দল নির্বাচিত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে জানা যাবে কে হচ্ছেন বগুড়া-৩ এলাকার সংসদ সদস্য। কে হাসবেন বিজয়ীর হাসি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156087