প্লাস্টিকের কাপে চা-কফি পান করা থেকে সাবধান!

প্লাস্টিকের কাপে চা-কফি পান করা থেকে সাবধান!

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চায়ের কাপে চুমুক দেয়া ছাড়া কারও কারও দিনই শুরু হয় না। এরপর সকালে নাশতার পর, দুপুরে খাবার খাওয়া, বিকেলে হালকা নাশতা এবং রাতের খাবার খাওয়ার পর চা পান করা হয়। কেউ কেউ আবার বাসা বা অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে চায়ে চুমুক দিয়ে থাকেন।

চা পান করলে মন-মেজাজ চাঙা হয়। কিন্তু অনেকেরই কাজের চাপের কারণে বাইরে থাকা হয় বলে প্লাস্টিকের কাপে চা পান করেন। কেউ কেউ নিজ সুবিধার্থেই ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপে চা নিয়ে পথচলা শুরু করেন। এই ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপ নিয়েই আপত্তি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এসব কাপে চা-কফি পান করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী চিকিৎসকদের মতে, প্লাস্টিকের কাপে কোনো ধরনের পানীয়ই পান করা ঠিক নয়। এটি শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শিশুদের দুধ খাওয়ার বোতলও প্লাস্টিকের হওয়া উচিত নয়। প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার খাওয়াও ঠিক নয় বলে মতামত চিকিৎসকদের।

প্লাস্টিকের পাত্রে বিসফানল নামে এক ধরনের মারাত্মক ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান থাকে। সেই রাসায়নিক গরম খাবার বা পানীয়ের সংস্পর্শে এসে শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতি করার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণ বিঘ্নিত হয়। এমনকি হরমোনের কাজেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি হার্ট, লিভার, ফুসফুস ও ত্বকেরও ক্ষতি হতে পারে।

প্লাস্টিকের পাত্র তৈরিতে পলিভিনাইল ক্লোরাইড ব্যবহার হয়। উপাদানটি নরম করার জন্য ব্যবহার করা হয় থ্যালেট। যা শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ থেকে শ্বাসকষ্ট, স্বাস্থ্য বেড়ে যাওয়া, অটিজম, স্তন ক্যানসারের মতো রোগ বাড়তে পারে। এ জন্য চিকিৎসকরা বলেন, প্লাস্টিকের পরিবর্তে মাটির ভাঁড়ে চা পান করা ভালো। এতে খাবার বা পানীয়ের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় না এবং পরিবেশও দূষিত হয় না।

এছাড়াও গবেষকরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের কাপ থেকে মুখে ও লিভারে ক্যানসার ছড়াতে পারে। এ ধরনের কাপগুলো মূলত মাইক্রোপ্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। এতে থাকা টক্সিক পদার্থ বিসফেনল-এ ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156040