এনসিপি জামায়াতে যোগ দেওয়ায় মানুষেরও আশা ভঙ্গ হয়েছে : মাহফুজ আলম

এনসিপি জামায়াতে যোগ দেওয়ায় মানুষেরও আশা ভঙ্গ হয়েছে : মাহফুজ আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টি– এনসিপি গড়ে উঠেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষস্থানীয় সব নেতাদের নিয়ে। অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করে তথ্য উপদেষ্টা ও গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পুরোধা মাহফুজ আলমও সেখানে যোগ দেবেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছিল। তবে সরকার থেকে পদত্যাগের পর মাহফুজ সবাইকে চমকে দিয়েই সে পথে হাঁটেননি, যা বিস্ময়ের জন্ম দেয়।

এবার সেই প্রশ্নের জবাবটা তিনি দিয়েছেন। তবে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনটা যে সত্যিই ছিল, সেটাও জানান তিনি। তার কথা, ‘এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আলোচনা অনেক দিন থেকেই ছিল। এনসিপি যদি বৃহত্তর জুলাই আমব্রেলার মাধ্যমে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতো, তাহলে আমার জন্য এনসিপিতে যোগ দেওয়াটা সহজ হতো।’ 

তবে তিনি জানান, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ফলেই মূলত দলটিতে যোগ দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তী ঘটনাচক্রে দেখা গেল যে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে একপ্রকার বাধ্য হলো, তাদের বর্ণনামতে।  আমি যেহেতু সবসময়ই বলেছি জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতির বিষয়ে, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো যেমন বিএনপি বা অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করার বিষয়ে, প্রথম থেকেই আমাদের চিন্তা ছিল যে এটা না করে কীভাবে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া যায়। ফলে আমি নিজেও অন্য কোনো দলে যোগ দিইনি, আমি চাইনি এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাক। কিন্তু যেহেতু তারা গেছে, সেহেতু তাদের বর্ণনামতে তাদের বাধ্য হয়ে জামায়াতে যোগ দিতে হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে, আমার নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে আমি একলা আমার অবস্থান নিয়ে আছি। চেষ্টা করছি নিজের মতো কাজ করার।’

তিনি আরও জানান, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ফলে মানুষেরও আশা ভঙ্গ হয়েছে। তার কথা, ‘আমার মনে হয় মানুষের আশা ভঙ্গ হয়েছে এতে। মানুষ চাচ্ছিল যে একটা তৃতীয় শক্তি আসুক, যারা তুলনামূলক নতুন ও পরিচ্ছন্ন, এনার্জেটিক, প্রমিজিং...। সেখানে ভাটা পড়েছে।’ 

এই জোটের পর নির্বাচনে জামায়াত লাভবান হবে বলে মনে করেন মাহফুজ, তবে এনসিপি পড়বে চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত ভালো একটা ভোট পাবে, তাদের পক্ষে একটা জোয়ার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এনসিপির বিষয়ে যে একটা হতাশা, আস্থাহীনতা আর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এটাকে ম্যানেজ করতে হবে কোনো এক সময়। এটা সম্ভব হবে কি না, আমি জানি না। মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের যেহেতু সাংগঠনিক শক্তি আছে, সেহেতু তারা কোনো কোনো আসনে ভালো করতে পারে।’ 

প্রথাগত রাজনীতি থেকে দূরে থেকে কী করছেন এখন, সেটাও জানিয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘আমরা যে কথাগুলো এতদিন বলে বলে মানুষকে আশান্বিত করেছিলাম, এক ধরনের সলিডারিটি তৈরি হয়েছে, সে কথাগুলো বলে যেতে চাই। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বলেন আর সমাজকে আমরা যেভাবে রূপান্তর করতে চাই, অর্থনৈতিক রিমডেল করতে চাই, সবগুলো জিনিস আমাদের বলার সুযোগটা যেন থাকে, সেজন্যে আমি নিজের আলাদা পথ বেছে নিয়েছি।’

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/156022