পাবনা-৩ আসনে বিএনপি বনাম বিদ্রোহীর লড়াইয়ে স্বস্তিতে জামায়াত প্রার্থী

পাবনা-৩ আসনে বিএনপি বনাম বিদ্রোহীর লড়াইয়ে স্বস্তিতে জামায়াত প্রার্থী

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভোটের উত্তাপ। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচনি সভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রার্থনা চলছে অবিরাম। নানা কৌশল ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাবনা-৩ আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ) ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলামের (ঘোড়া) দলীয় বিভক্তিকরণে ভোট ভাগ হলেও সমীকরণে এগিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আলী আছগার (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়াও মাঠে রয়েছেন জাপার প্রার্থী মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু(লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম রাজা (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল খালেক (হাতপাখা), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য) ও সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী (একতারা)।

তবে বিএনপি, স্বতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। ধানের শীষের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে তার অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো ও তিন উপজেলার নেতাকর্মীদের বড় অংশ তার পক্ষে মাঠে রয়েছেন। প্রতিদিন নির্বাচনি জনসভা ও গণসংযোগ ছাড়াও যোগ দিচ্ছেন নানা অনুষ্ঠানে, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণায় এগিয়ে তিনি।

অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তিন উপজেলাতেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, চাটমোহর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইনসলাম তায়জুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান লেবু ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম।

এ আসনে এই দুই প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আলী আছগার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেন বলে অনেকের অভিমত। তবে এ আসনে উল্লেখযোগ্য হিন্দু ভোটার ও তরুণ ভোটাররা জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155963