কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পোস্টারবিহীন নির্বাচনি প্রচারে নেই ভোটের আমেজ
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামের রাজারহাটেও পোস্টার ছাড়া শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। এবার কাগজের পোস্টারের পরিবর্তে সীমিত আকারে পরিবেশ বান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া একটি সংসদীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি নির্দিষ্ট মাপের (১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থ) বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও এর দৃশ্যমান ব্যবহার তেমন দেখা যায়নি।
কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও কুড়িগ্রাম সদর) আসনে চিরচেনা নির্বাচনি জৌলুস ও উৎসবমুখর পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত। সরকারের নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার, বিলবোর্ড ও দেয়াল লিখন। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আকাশপথে প্রচারণার উপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী দশ দলীয় ঐক্য জোটের এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির আলহাজ পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুর বখত (হাতপাখা) এর পক্ষে ভোট চেয়ে কিছু ব্যানার ও লিফলেট দেখা গেছে।
এরমধ্যে বিএনপি ও এনসিপির প্রার্থীর ব্যানারের সংখ্যাই বেশি। বিভিন্ন এলাকার বাঁশের খুঁটিতে সাদা-কালো এসব ব্যানার বাঁধা ছিল। এই দুই দল ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কয়েকটি নির্বাচনি ক্যাম্প দেখা গেলেও অন্যান্য প্রার্থীর কোনো ক্যাম্পের দেখা পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করার সুযোগ থাকলেও বিএনপি, এনসিপি, জাপা ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া অন্য কারও প্রচারণা এলাকাবাসী শোনেনি।
ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন মিয়া বলেন, আগে নির্বাচন মানেই রাস্তা জুড়ে পোস্টার, ব্যানার, মিছিল। এখন কিছুই নেই। কে দাঁড়িয়েছে, কোন দলে কিছুই বুঝি না। ৬৬ বছর বয়সী বরকত আলী বলেন, আমরা অনলাইনে প্রচারণা দেখব কীভাবে? পোস্টারই ছিল সবচেয়ে সহজ উপায়। এখন তো নির্বাচন হচ্ছে, সেটাই ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ভিন্ন মত দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেকেন্দার আলী বাদশা ব্যাপারি বলেন, পোস্টার না থাকায় শুরুতে প্রার্থী চিনতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে পরিবেশ রক্ষা ও নির্বাচনের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর জন্য এটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155960