১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তার স্বপ্ন পূরণে হাত দেয়া হবে : রংপুরে বিশাল জনসভায় তারেক রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তার স্বপ্ন পূরণে হাত দেয়া হবে : রংপুরে বিশাল জনসভায় তারেক রহমান

হুমায়ুন কবীর মানিক : রংপুর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই অঞ্চলের পানি সমস্যা আছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শহীদ জিয়া তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করেছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৩ তারিখ সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলের মানুষের তিস্তা ব্যারেজের স্বপ্ন পূরণে আমরা দ্রুত হাত দিবো ইনশআল্লাহ। তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ খাল খননের কাজ শুরু হবে। যাতে কৃষি অঞ্চল মানুষের উপকারে আসে।

বিএনপি নির্বাচিত হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে। শুধু তাই নয় কৃষকদের জন্য ফ্যামেলী কার্ডের মতো কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হবে।  আবু সাঈদের রক্তে মেশানো মাটি এই রংপুর। সেই রক্ত বৃথা যেতে পারে না। রংপুর সহ বিভাগের অন্যান্য জেলাকে গরীব বলা হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না বরং এই অঞ্চল সম্ভাবনাময়।

পথে দেখলাম বোরো ধান রোপনের প্রস্তুতি চলছে। অথচ এক সময় এই বোরো ধান চাষ হতো না। শহীদ জিয়া খাল খননের মাধ্যমে এই বোরো ধানের চাষের ব্যবস্থা করেছিলো। দেশের অন্যান্য বিভাগ, ঢাকা, চট্টগ্রামে যদি ইন্ড্রাষ্টিয়াল হতে পারে তাহলে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে রংপুর দিনাজপুরে কেন কৃষি পণ্যের জন্য ইন্ড্রাষ্টিজ হতে পারে না।

এই অঞ্চলে ইন্ড্রাষ্টিয়াল করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আমি আগে জানতাম শুধু দিনাজপুরে কয়লা খনি আছে, রংপুরের পীরগঞ্জে কয়লা আছে। তাই এই কয়লা যদি উত্তোলন করতে পারি, তাহলে এই কয়লা দিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারি।

আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯ টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহে বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও রংপুর সদর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর-বিভাগ) আব্দুল খালেকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের তৃণমুল থেকে সকল শ্রেণির মানুষের প্রচেষ্টায় এই দেশের পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে। তাহলে আমাদের অধিকার আদায় হবে। আমরা জুলাই সনদকে সম্মান করি এজন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোটে দিবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে। বিগত সরকার ১৬ বছরে মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। শুধু মেগা প্রজেক্ট হলে সমস্যা ছিলো না। কিন্তু মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করে দেশের বাইরে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে হবে। যে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে।

আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বিএনপি পারে দুর্নীতি দমন করতে। তাই বলতে চাই, দেশে বড় বড় ফ্লাইওভার হবে, বড় বড় বিল্ডিং হলে হবে, কিন্তু মানুষ চায় তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন, মানুষ চায় কর্মসংস্থান। একটি দল বলে বেড়াচ্ছে, তারা যখন আমাদের সাথে ক্ষমতায় ছিলো, তখন তারা ভালো ছিলো আমরা খারাপ ছিলাম। আমি বলতে চাই, মানুষতো ভালো মানুষের সাথে থাকতে চায়, কিন্তু তারা কেন ৫ বছর আমাদের সাথে থাকলো। তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা ভুল বলছে।

এর আগে রাত সাড়ে ৮ টায় জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় করতালি, স্লোগান ও দলীয় পতাকা নেড়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান তারা। পুরো সমাবেশ এলাকাটি মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এদিকে বিকেলের আগেই তারেক রহমানের নির্বাচনী বিভাগীয় জনসভাস্থল কালেক্টরেট মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নির্বাচনী জনসভার মাঠের আশেপাশেও ভরে ওঠেছে কর্ম-সমর্থকদের সরব উপস্থিতির মধ্যদিয়ে। জনসভার মাঠে লাল সবুজের পতাকা, বিএনপির দলীয় পতাকা হাতে হাতে ধানেরশীষ উজ্জীবিত নেতাকর্মী। নগরীর কাচারী বাজারের প্রধান সড়কে বিভিন্ন স্থান থেকে বড় মিছিল আসছে মাঠের দিকে। তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্য বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন মোড়ে।

এর আগে রংপুরের পীরগঞ্জ বাবনপুর জাফরপাড়ায় উপস্থিত হয়ে জুলাই অভুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে আমাদের গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে দলীয় নেতাকর্র্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঢল নামে। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি)  রংপুরে জনসভার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তার গাড়ি বহর গোবিন্দগঞ্জে পৌঁছালে অপেক্ষমান নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনিও সকলের অভিনন্দনের জবাব দেন।

এসময় গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফারুক আহম্মেদ, সদস্য সচিব রেজানুল হাবিব রফিক, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনু, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর লেলিনসহ শত শত নেতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155958