ছোট ফ্ল্যাট গুছিয়ে রাখার কৌশল

ছোট ফ্ল্যাট গুছিয়ে রাখার কৌশল

ছোট ফ্ল্যাট এখন অনেকেরই বাস্তবতা। ছয়শ থেকে সাতশ বর্গফুটের বাসস্থানেই স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজ করতে হয়।

তবে একটি ছোট ঘর মানেই অগোছালো, এই ধারণা পুরোপুরি ভুল।

নিয়মিত বাছাই, বুদ্ধি করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা আর অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চললে, ছোট ফ্ল্যাটও হয়ে উঠতে পারে পরিপাটি ও রুচিশীল।

নিয়মিত বাছাইয়ের গুরুত্ব

ছোট ফ্ল্যাটে থাকলে নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। আলমারি বা ক্যাবিনেট খুলে যদি স্বস্তি না পাওয়া যায়, তখনই বুঝতে হবে সময় এসেছে বাছাইয়ের।

সব জিনিস বের করে মেঝেতে রেখে একবার ভালো করে দেখা জরুরি। যেসব জিনিস মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ব্যবহার হয়নি বা চোখেই পড়েনি, সেগুলো আসলে খুব প্রয়োজনীয় নয়। সেগুলো বাদ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন- গৃ্‌হসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।

বাছাই শেষে দ্রুত বাদ

অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে দ্রুত ঘর থেকে বের করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। অনলাইনে পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে এখন- আসবাব, যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে পোশাক, মেইকআপ সবই বিক্রি করা যায়। তবে দেরি করলে সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই মন বদলানোর আগেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি বা দান করতে হবে। এভাবে ছোট ফ্ল্যাটে নতুন জায়গাও বের হবে।

ছাড়তে না পারলে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা

অনেক সময় কিছু জিনিসের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে বাদ দেওয়া কঠিন হয়। এক্ষেত্রে একটি সাময়িক সংরক্ষণ স্থানে রাখা যেতে পারে।

যেখানে ওই জিনিসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখা হবে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও যদি প্রয়োজন না হয়, তবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এই পদ্ধতি মানসিক চাপ কমায় এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে থাকার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বড় প্যাকেট কেনা সব সময় সঠিক নয়

“ছোট বাসস্থানে বড় প্যাকেট বা একসঙ্গে অনেক পণ্য কেনা ঘরকে অগোছালো করে।”- বলেন, গুলশান নাসরিন। বরং কম পরিমাণে, প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাই বুদ্ধিমানের। অনেকেই বড় কার্টন বা কাগজের বাক্সে পণ্য রাখতে চান। তবে সেটা খাটের নিচে বা আলমারি কোনো কিছুর উপরেই রাখা যায় না।

সংরক্ষণ বাক্সের ব্যবহার

ছোট জায়গাতেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্মৃতিচিহ্ন রাখতেই হয়। জন্মদিনের উপহার কার্ড, পরিচয়পত্র কিংবা নথি। এসব এক জায়গায় রাখা জরুরি। রুচিশীল একটি সংরক্ষণ বাক্স এই কাজে আদর্শ। বইয়ের তাকের ওপর রাখা এমন একটি বাক্স ঘরের সাজের সঙ্গেও মানিয়ে যায়, আবার প্রয়োজনের সময় খুঁজে পেতেও সুবিধা হয়।

কাঠের বাক্স, যেমন- আকারে ছোট, তেমনি এ কাজে ভীষণ উপযোগী।

আলমারির দরজার পেছনের জায়গা কাজে লাগানো। ছোট ফ্ল্যাটে প্রতিটি ইঞ্চি গুরুত্বপূর্ণ। আলমারির দরজার পেছনের অংশ প্রায়ই অব্যবহৃত থাকে। দরজার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার স্থান ভালো সমাধান। শোবার ঘরের আলমারির দরজার পেছনে ঝোলানো যায় ব্যাগ, ভ্রমণের থলি বা ছোটখাটো জিনিস।

এতে ঘরের ভেতরে প্রবেশে একটু কষ্টকর হতে পারে। তবে যে অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যায়, তার তুলনায় এই অসুবিধা তেমন বড় নয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155935