ঘুমানোর আগে যেসব বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খোলা জরুরি
রাতের ঘুমের আগে দাঁত মাজা, সিঙ্ক মুছে রাখা, বাতি বন্ধ করা- এই কাজগুলোর বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। আর তা হল, কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখা। রাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্লাগে লাগানো যন্ত্র শুধু বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় না, বরং আগুন লাগার ঝুঁকিও বাড়ে।
অনেক যন্ত্র এমনকি বন্ধ অবস্থায়ও বিদ্যুৎ খরচ করে, যেগুলোকে বলা হয় শক্তি শোষণকারী যন্ত্র। আবার কিছু যন্ত্র অতিরিক্ত গরম, যেমন- মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ‘বিস্ফোরণে’র মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে।
বিদ্যুৎ-চালিত হিটার
শীতে ঘরের তাপমাত্রা বাড়াতে হিটারের ব্যবহার বাড়ে। তাই এটি হয়ে ওঠে ঘরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রগুলোর একটি।
বহনযোগ্য বৈদ্যুতিক হিটার শীতের সময় আরাম দিলেও রাতে এগুলো চালু বা প্লাগে লাগানো কিন্তু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। শীতে বাসাবাড়িতে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে এই হিটার। এগুলো প্রচুর বিদ্যুৎ টানে, অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে, হেলে পড়তে পারে বা পর্দা ও বিছানার চাদরের মতো দাহ্য জিনিসে আগুন ধরাতে পারে।
রাতে ঠাণ্ডা লাগলে না ঘুমানো পর্যন্ত হিটার ব্যবহার করতে হবে। দরজা জানালা কিছু সময় বন্ধ রাখলে ঘর দীর্ঘ সময় গরম থাকবে। আর অতিরিক্ত কম্বল নেওয়াও অনেক বেশি নিরাপদ।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার: চার্জ শেষ হলে প্লাগকে বিদায়
আধুনিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট সাধারণত শতভাগ চার্জ হলে নিজে থেকেই চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তবুও এগুলো প্লাগে লাগানো থাকলে সামান্য হলেও বিদ্যুৎ খরচ চলতেই থাকে। এই অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারে মাসের শেষে বিল বাড়ে, অথচ কোনো উপকার পাওয়া যায় না।
“রাতভর চার্জে থাকলে যন্ত্র ও চার্জারের মধ্যে তাপ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির আয়ুও কমিয়ে দেয়। এছাড়া যন্ত্রের তার ও সকেটের ক্ষয় বাড়ায়”- বলেন বৈদ্যুতিক যন্ত্র মেরামতকারী কাদের মেহতাব।
তাই ঘুমানোর আগে চার্জ শেষ হলে প্লাগ খুলে রাখাই নিরাপদ কাজ।
লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত যন্ত্র: বাড়তি সতর্কতা জরুরি
লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা প্রয়োজন। এই ধরনের ব্যাটারি চার্জের সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগা বা বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহৃত যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পাওয়ার ব্যাংক, রিচার্জেবল টুথব্রাশ, ত্বক পরিচর্যার যন্ত্র।
“এ যন্ত্রগুলোর ব্যাটারি পুরানো হলে, চার্জার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা প্রস্তুতকারকের অনুমোদনহীন চার্জার ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এসব যন্ত্র পুরো চার্জ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্লাগ খুলে রাখা এবং রাতে ঘুমিয়ে গেলে চার্জ না দেওয়াই নিরাপদ”- পরামর্শ দেন রিচার্জেবল পণ্য বিক্রেতা সোহরাব আলী।
বিনোদন যন্ত্র: বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ খরচ হয়
টেলিভিশন, গেইমিং কনসোল কিংবা সেট-টপ বক্স- বন্ধ থাকলেও প্লাগে লাগানো থাকলে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। এই সমস্যার সহজ সমাধান হল একটি সকেট।
এমন দেওয়ালের সকেট থেকে একসঙ্গে একাধিক যন্ত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়।
গেইমিং প্রেমী ইফফাত তার গেইমিং যন্ত্র, টেলিভিশন ও বেশ কিছু যন্ত্রের জন্য বাড়িতে এমন ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “একাধিক যন্ত্র একটি পাওয়ার সকেটের আলাদা আলাদা পয়েন্টে লাগিয়ে রাখলে রাতে শুধু সকেটটি বন্ধ করলেই সব যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এতে আলাদা করে প্রতিটি প্লাগ খুলতে হয় না এবং দিনে আবার ব্যবহার করাও সহজ হয়। এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ শুধু সাশ্রয়ই হয় না বরং যন্ত্রের নিরাপত্তাও বাড়ে।”
রান্নাঘরের যন্ত্র: প্রতিদিন ব্যবহার মানেই নিরাপদ নয়
কফি মেশিন, বৈদ্যুতিক কেটলি, টোস্টার কিংবা মিক্সারের মতো যন্ত্র প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় বলে এগুলো ঝুঁকিমুক্ত নয়। এসব যন্ত্র উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
তাই কেটলির তলানীতে ত্রুটি বা টোস্টারের ভেতরে জমে থাকা কণা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগাতে পারে।
রাতে প্লাগ খুলে রাখলে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
চুলের তাপযন্ত্র: কম লাভ, বেশি ঝুঁকি
কার্লিং আয়রন, হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের মতো তাপ ব্যবহারকারী যন্ত্রগুলো ব্যবহারের পরও দীর্ঘ সময় গরম থাকে। এগুলো ভুল করে চালু হয়ে যেতে পারে বা গরম অবস্থায় আশপাশের জিনিসে আগুন ধরাতে পারে।
“ব্যবহারের পর যন্ত্র ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে, তারপর গুছিয়ে রাখা জরুরি এবং অবশ্যই প্লাগ খুলে রাখতে হবে” বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশারদ শারমিন কচি।
ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরানো যন্ত্র: অবহেলা নয়
যে কোনো যন্ত্র যদি অস্বাভাবিকভাবে গরম লাগে, প্লাগ ক্ষতিগ্রস্ত মনে হয় বা নড়াচড়া করলে শব্দ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেটির প্লাগ খুলতে হবে। প্রতিদিনের ব্যবহৃত পুরানো বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র যা প্লাগে লাগানো থাকার কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155917