গ্যাসের চুলার বিকল্প ইন্ডাকশন চুলার যত্ন ও ব্যবহার

গ্যাসের চুলার বিকল্প ইন্ডাকশন চুলার যত্ন ও ব্যবহার

অনেক পরিবারই বিকল্প রান্নার পদ্ধতির জন্য ইন্ডাকশন চুলার দিকে ঝুঁকছে। গ্যাসের ঝামেলা নেই, আগুন জ্বালানোর ভয় নেই, আবার বিদ্যুৎ থাকলেই রান্না করা যায়- এই সুবিধাগুলোই ইন্ডাকশন চুলাকে অনেকের পছন্দের তালিকায় এনেছে। গৃহিণী আশিমা খাতুন শীতের শুরু থেকেই গ্যাসের চুলার পাশাপাশি ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, “শীতের শুরুতে সকাল ছয়টা সাতটা পর্যন্ত গ্যাস থাকত। কিন্তু এখন রান্নার সময়ে কোনো গ্যাস থাকে না। সিলিন্ডার গ্যাসেরও দাম চড়া। তাই ইন্ডাকশন চুলাই ভরসা। আগে কয়েক ঘন্টা ব্যবহার করতে হত আর এখন সব রান্নাই চলে এতে।”

ইন্ডাকশন চুলা যেভাবে কাজ করে

ইন্ডাকশন চুলা সরাসরি আগুন তৈরি করে না। এটি চৌম্বক শক্তির মাধ্যমে পাত্রের তলাকে গরম করে।

“ফলে রান্না দ্রুত হয় এবং তাপ নষ্ট কম হয়”- বলেন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা শমের আলী।

এই প্রযুক্তির কারণে চুলার ওপরে খাবার পড়লেও তা সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায় না, যা পরিষ্কার রাখাকেও তুলনামূলক সহজ করে।

চুলা রাখার সঠিক জায়গা

ইন্ডাকশন চুলা রাখার জায়গা বাছাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সমতল ও শক্ত জায়গায় চুলা রাখতে হবে, যেন রান্নার সময় নড়াচড়া না করে।

দেয়ালের সঙ্গে একেবারে লাগিয়ে রাখা ঠিক নয়। চারপাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকা দরকার, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।

“ভেজা জায়গা, সিঙ্কের একেবারে পাশে বা জানালার নিচে রাখা থেকে বিরত থাকাই ভালো। অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা পানি পড়লে বৈদ্যুতিক সমস্যার ঝুঁকি থাকে”- বলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রধান রিনাত ফৌজিয়া।

ব্যবহার শেষে চুলা মুছবেন যেভাবে

রান্না শেষে ইন্ডাকশন চুলা পুরোপুরি ঠাণ্ডা হলে পরিষ্কার করা উচিত। নরম শুকনা বা সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে চুলার কাচের অংশ মুছলে দৈনন্দিন ময়লা সহজেই উঠে যায়। তেল বা খাবারের দাগ বেশি হলে হালকা সাবান মেশানো পানি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কখনই সরাসরি চুলার ওপর পানি ঢালা যাবে না।

স্টিলের স্ক্রাবার বা শক্ত কিছু দিয়ে ঘষলে কাচে আঁচড় পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলতে হবে।

‘পাওয়ার’ কত রাখা উচিত

ইন্ডাকশন চুলায় সাধারণত বিভিন্ন মাত্রার ‘পাওয়ার অপশন’ থাকে। হালকা গরম করা, দুধ ফুটানো বা স্যুপ রান্নার জন্য কম ‘পাওয়ার’ যথেষ্ট।

ভাত, তরকারি বা ভাজা রান্নার সময় মাঝারি ‘পাওয়ার’ ভালো কাজ দেয়।

খুব বেশি ‘পাওয়ার’ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে এবং চুলার ওপরও চাপ পড়ে। তাই রান্নার ধরন অনুযায়ী ‘পাওয়ার’ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

উপযুক্ত পাত্র ব্যবহার জরুরি

সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ইন্ডাকশন চুলায় কাজ করে না। চৌম্বকধর্মী তলা আছে এমন পাত্র ব্যবহার করতে হয়।

“সাধারণত লোহার বা বিশেষ ইন্ডাকশন উপযোগী স্টিলের পাত্র সবচেয়ে ভালো ফল দেয়”- মত দেন রিনাত ফৌজিয়া। পাত্রের তলা সমান ও পরিষ্কার হলে তাপ সমানভাবে ছড়ায় এবং রান্নাও ভালো হয়। অসম বা বাঁকানো তলার পাত্রে রান্না করলে চুলা ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।

বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগের যত্ন

ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারের সময় বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তার যেন ভাঁজ হয়ে না থাকে বা অতিরিক্ত টান পড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চুলার তার কখনই গরম জায়গার ওপর দিয়ে নেওয়া উচিত নয়। আর ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখাই নিরাপদ, বিশেষ করে বাড়িতে শিশু থাকলে।

এছাড়া কোনো কারণে চুলার তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজেই ঠিক করার চেষ্টা ঝুঁকি তৈরি করে। তাই দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্যই নিতে হবে।

রান্নার সময় কিছু সতর্কতা

রান্নার সময় চুলার ওপর ভারী কিছু হঠাৎ ফেলে দেওয়া যাবে না। এতে কাচ ভেঙে যেতে পারে। আবার চুলা চালু থাকা অবস্থায় বারবার প্লাগ খুলে লাগানো একেবারেই ঠিক নয়।

রান্নার মাঝখানে চুলা বন্ধ করতে হলে নির্ধারিত বোতাম ব্যবহার নিরাপদ পদ্ধতি।

বিদ্যুৎ চলে গেলে এই চুলা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিদ্যুৎ এলে আবার নতুন করে সেট করতে হয় এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155911