সিরাজগঞ্জের পরিত্যক্ত জমিতে বরই চাষ

সিরাজগঞ্জের পরিত্যক্ত জমিতে বরই চাষ

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পুকুর পাড়ে পরিত্যক্ত পতিত জমিতে অর্গনিক পদ্ধতিতে উন্নতজাতের বরই চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক রাহাদ খাঁন রুবেল। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক বরই বাগান গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। স্বল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনায় তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সান্তান গ্রামের বাসিন্দা রাহাদ খাঁন রুবেল আলীম হোসেনের নিজস্ব ২৫ বিঘা জমিতে বরই বাগান গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গত বছর এই বাগান করেন। বাগানে কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি জানান। প্রথমবার বাগানে ফলন না হলেও এবছর ফলন হয়েছে।

তার বাগানে উন্নত জাতের বলসুন্দরী, থাইকুল, আপেল কুল ও কাশ্মীরি জাতের মোট ১ হাজার ২শ’টি বরই গাছ রয়েছে। জমি প্রস্তুত, চারা ক্রয়, রোপণ, পরিচর্যা এবং ফল উত্তোলন পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তার বাগানের গাছে বরই ধরেছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছেই প্রচুর বরই দেখা যাচ্ছে। ফলগুলো আকারে বড় ও স্বাদে অত্যন্ত সুমিষ্ট হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী কৃষক রুবেল আশা করছেন, প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকার বড়ই বিক্রি করতে পারবেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে তার প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ হবে। যা অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, বড়ই চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের বড়ই চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে উপজেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বড়ই চাষ হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় রাহাদ খাঁন রুবেল অর্গানিক পদ্ধতিতে পুকুরপাড়ে অনাবাদি পতিত জমিতে বরইবাগান গড়ে তুলেছেন এবং এতে সাফল্যও পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যেসব কৃষক উন্নত জাতের বড়ই বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী, কৃষি বিভাগ তাদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155864