বিয়ের সঠিক সময় বয়স নয়, চাই মানসিক প্রস্তুতি
লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি বৈধ চুক্তি, যা দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের সূচনা করে। ভালোবাসার সম্পর্ককে সামাজিক ও আইনি স্বীকৃতি দেয় এই বন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়-কবে এই বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত? কত বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে তা ‘সঠিক সময়’ বলে ধরা যায়? এই বিষয়টি নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা মতপার্থক্য।
একটি বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট-তাড়াহুড়া করে বিয়ে করাটা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। শুধু সমাজ বা পরিবারের চাপ, কিংবা ‘বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে’-এই ভাবনা থেকে বিয়ে করা উচিত নয়। বরং নিজের কেরিয়ার গুছিয়ে নিয়ে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে কেউ যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, সেটাই তার ব্যক্তিগত অধিকার।
এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী লারা দত্তের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের প্রাক্তন টেনিস তারকা মহেশ ভূপতিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত তিনি হঠাৎ করে নেননি। বরং দীর্ঘ সময় নিয়ে ভেবেচিন্তেই জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন।
লারা দত্ত তার স্বামী মহেশ ভূপতির সঙ্গে
এক সাক্ষাৎকারে লারা বলেন, আমি অল্প বয়সে বিয়ে করিনি। আমি সময় নিয়েছিলাম। আগে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছি, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছি। আমি কোনো পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে চাইনি, কখনও হবও না।’
তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়-বিয়ে মানে আত্মনির্ভরতা হারানো নয়, বরং নিজের অবস্থান শক্ত করে তোলার পর জীবন ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
বিয়ের বয়স নিয়ে সমাজের ভুল ধারণা
আমাদের সমাজে এখনও একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে-বিয়ের একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে, সেই সময় পেরিয়ে গেলে দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। কিন্তু মনোবিদদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি ভ্রান্ত।
সব ক্ষেত্রে প্রেমে অনিশ্চয়তা বা জীবনসঙ্গী না পাওয়াই যে বিয়ে দেরি হওয়ার কারণ, তা নয়। অনেকেই আগে নিজেকে ভালো করে চিনতে চান, নিজের চাহিদা, সীমা ও প্রত্যাশা বুঝে নিতে চান। তারপরেই তারা অন্য একজন মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মানসিক প্রস্তুতির কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের জন্য যে মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে একজন মানুষের আত্মসচেতনতা ও জীবনের অভিজ্ঞতার উপর। কারো ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি ৩০ বছর বয়সে আসে, আবার কারো ক্ষেত্রে ৩৫-৪০ বা তারও পরে হতে পারে।
তাড়াহুড়ার বিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকিত্বের ভয় বা সমাজ-পরিবারের চাপে তাড়াহুড়া করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। নিজের সীমা-পরিসীমা, চাহিদা ও আবেগ না বুঝে সম্পর্কে জড়ালে সেখানে পারস্পরিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হয় না। তখন সম্পর্কটা হয়ে দাঁড়ায় শুধুই টিকে থাকার লড়াই।
নিজের সময় অনুযায়ী বিয়েই বিচক্ষণতা
মনোবিদদের স্পষ্ট মত, জীবনের ‘শূন্যতা’ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে সম্পর্ক সাধারণত মজবুত হয় না। বরং যখন দু’জন মানুষ নিজেদের জীবনে পরিপূর্ণ হয়ে একে অপরের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চান, তখনই একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়।
তাই নিজের সময় অনুযায়ী বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভুল নয়-বরং সেটাই পরিণত, সচেতন এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155806