কুমিল্লায় জোড়া খুনের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

কুমিল্লায় জোড়া খুনের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জোড়া খুনের ঘটনার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বক্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার এর ছেলে মামুন, মো. ইলিয়াছ, জিয়াউর রহমান, মাহবুবুল হক, দেলোয়ার হোসেন নয়নের ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয়, মহিবুল্লাহ মেম্বার ও কামরুল হাসান।

এতে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘদিন ধরে আলা উদ্দিন মেম্বার ও ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে সম্প্রতি বক্সগঞ্জ ইউপির আলীয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ছালে আহাম্মদ ও প্রবাসী আনোয়ার হোসেন নয়নকে গুলি করে হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে আলা উদ্দিন গোষ্ঠীর তোতা, তারেক, স্বপন, ইসরাফিল, শেখ আহম্মেদসহ কয়েক শ লোক একত্রিত হয়ে হত্যা করে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি হত্যাকারিদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলায়েত হোসেন, আলা উদ্দিন, মাস্টার কামরুল, মকলেছুর রহমান খান, ইয়াকুব নবী, এবায়েদুল হক, জাকির হোসেন, শেখ ফরিদ, ইয়াছিন, আজিম, বেলাল, ফারুক, রুবেল, মানিক, শেখ আহম্মেদ, সাবউদ্দিন, জাকির হোসেন, মনকিরের নেছা, হনুফা বেগম, গোল বাহার, ফরিদা বেগম, লিজা, বানু, রিনা আক্তার, রাহেনা বেগম ও মায়া বেগম সহ শত শত মানুষ।

জানা যায়, গত দীর্ঘদিন ধরে আলা উদ্দিন মেম্বার ও ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জেরে প্রতিপক্ষের আলা উদ্দিন মেম্বার গত বছরের ৩ আগস্ট খুন হন। এ ঘটনার জেরে প্রায় ৬০-৭০ পরিবারের শতশত লোকজন গ্রাম ছাড়া ছিলেন। দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ৯ জানুয়ারি ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গৌষ্ঠির কিছু লোকজন বাড়িতে ফেরে। এরপর থেকে মৃত আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে গ্রামের রাস্তার উঠতে নিষেধ করে আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন। এরপর ছালেহ আহম্মদ এর লোকজন শুক্রবার রাস্তার দিকে গেলে আগ থেকে ক্ষিপ্ত থাকা আলা উদ্দিন মেম্বারের প্রায় ৩০০ লোক আগ্নেয়াস্ত্র বোমা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৮ বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে ও ছালেহ আহম্মদ মেম্বারের হাত ও পায়ের রগ কেটে গুলি করে এবং নয়নকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করেন। এরপর আতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু‘জনকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ছাড়া আরও ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি তদন্ত মো. শাহজালাল জানান, এ ঘটনায় ৪ জান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে দুই জনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে রিমান্ডে আনা হবে। সেই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155777