তারেক রহমান যোগ্য বাবা-মার যোগ্য সন্তান

তারেক রহমান যোগ্য বাবা-মার যোগ্য সন্তান

জ্ঞানীদের মতে ‘মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়’। এই পাক-ভারত উপমহাদেশের খুবই কম দম্পতি আছেন যারা নিজ নিজ মাতৃসেবার কারণে তাঁদের দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়েছেন বারংবার। এমনি একটি নির্মোহ দম্পতি হলেন জিয়া-খালেদা দম্পতি। একজন অকুতোভয় বীর সেনানী যিনি দেশের জন্য সকল ভয়, শঙ্কা আর নিজের ভবিষ্যতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হয়ে সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু রি-ভোল্টই করেননি, উদ্বুদ্ধ করেছেন দেশবাসীকে। দিয়েছেন স্বাধীনতার ঘোষণা। এই মহান-মানুষটি নিজের ও পরিবারের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরবর্তীতে দেশের ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের জন্য আবারও জীবন বাজি রেখে দেশের হাল ধরেছেন। হয়ে উঠেছেন একজন সফল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রনায়ক। কৃষি প্রধান এই দেশের কৃষি সেক্টর থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম দক্ষতা ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। যুব উন্নয়ন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, গ্রাম সরকার, খাল খনন প্রভৃতি কর্মসূচী ছিল একেকটি উন্নয়নের সিঁড়ি। প্রতিটি কর্মসূচীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত মজবুত। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতার বীজ তিনি অত্যন্ত নিপুণ হাতে বপন করেছিলেন। দেশের কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্যের বুলেটের আঘাতে কেড়ে নিয়েছিল এই মহান মানুষটির অপরাজিত মহৎ প্রাণ। কিন্তু ঘাতকেরা হয়ত বুঝেনি আদর্শের কোন মৃত্যু নেই। তিনি যে নৈতিকতা ও আদর্শ আমাদের মাঝে, তাঁর প্রিয় পরিবারের মধ্যে রেখে গিয়েছেন তার কখনই মৃত্যু নেই। তাই তো ১৯৮১ সালে এই মহান রাষ্ট্রনায়কের শহিদ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুখ দুঃখের সাথে ওতপ্রোতভাবে যিনি জড়িত ছিলেন তিনি হলেন আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় আপসহীন ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া। যিনি কখনই কোন অন্যায় বা গণতন্ত্রহীনতার সাথে কোনভাবেই আপস করেননি। তাই তো তিনি আপোসহীন নেত্রী হিসেবেই মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। যিনি কখনই কোন নির্বাচনে পরাজয়বরণ করেননি। এটাই দেশবাসীর ভালবাসা। তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোন ধরনের দুর্নীতি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে নাই। বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে তাঁকে কারাবরণ করতে হলেও তিনি দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় হয়েছেন গণতন্ত্রের মা। একবার ভাবুন একজন মা, যাঁর বড় ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে, ছোট ছেলে মারা গেলেন আর নিজে দীর্ঘ চল্লিশ বছরের উপরে স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়ি হতে ফ্যাসিষ্ট কর্তৃক অন্যায়ভাবে জিঘাংসার শিকার হয়ে বিতাড়িত। এমন পরিস্থিতির শিকার একজন মা কতটা দেশপ্রেম আর উদারতার বাহক হলে শুধু দেশ, মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য সকল প্রলোভন ও অন্যায়কে উপেক্ষা করে হয়ে উঠেছেন গণতন্ত্রের মা। 

এমন এক দম্পতির সৌভাগ্যবান সন্তানের নাম হল জনাব তারেক রহমান। যিনি তাঁর বাবা মায়ের সেই দেশপ্রেম ও মানুষের ভালবাসায় একদিকে যেমন হয়ে উঠেছেন অসাধারণ মানবিক ও দেশপ্রেমিক অন্যদিকে দীর্ঘদিন অত্যাচারী শাসকের অত্যাচারের পরাকাষ্ঠে হয়ে উঠেছেন একজন সত্যিকারের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে। যার ফল আমরা লক্ষ্য করছি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকলেও যাঁর প্রতিটি সেকেন্ড কাটে বাংলাদেশের মানুষের কথা ভেবে। যিনি তাঁর বিচক্ষণতা দিয়ে দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির হিসাব সঠিকভাবে রাখেন। দেশের উন্নয়নে তিনি যে ৩১ দফা দিয়েছেন তা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে বাংলাদেশ হবে এই আধুনিক বিশ্বের এক উন্নত রাষ্ট্র। শিক্ষা, চিকিৎসায়, কৃষি ও মানব সম্পদ উন্নয়নে তারেক রহমানের পরিপক্ক ও বাস্তবসম্মত ধারণা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে বাংলার প্রতিটি গ্রাম হয়ে উঠবে আদর্শ গ্রাম, প্রতিটি মহল্লা হয়ে উঠবে মডেল মহল্লা, আর প্রতিটি ব্যক্তি হয়ে উঠবে উন্নয়নের আইকন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশ যে দূষণের শিকার তা হয়ে উঠবে পরিচ্ছন্নতার উদাহরনে। উন্নত চিকিৎসা ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপে নিশ্চিত হবে দেশের কাক্সিক্ষত উন্নত চিকিৎসা। দেশে গড়ে উঠবে উন্নত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। যে দেশ যত উন্নত, সে দেশ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় তত অগ্রবর্তী। জনস্বাস্থ্য যত উন্নত হবে চিকিৎসা তত সহজ ও কার্যকর হবে। কারণ জনস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত বিশুদ্ধ খাদ্যের নিরাপত্তা, জনসাধারণের জীবন যাপন প্রণালী, খাদ্যাভ্যাস এবং সর্বোপরি জনসচেতনতা। এই সবকিছুই নির্ভর করে পরিচ্ছন্ন ও দূষণ বিহীন পরিবেশের উপর। বিএনপির চেয়ারম্যান  তারেক রহমানের এই দীর্ঘ দিনের গবেষণা ও বিশ্লেষণে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের সার্বিক উন্নয়নের বিবেচনায় প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে।

কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হল কৃষি ও কৃষক। এই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য তিনি কৃষক কার্ডের কথা বলেছেন। যে কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষক তার আবাদী জমির পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিচর্যার বিভিন্ন ধাপ ও সময় সম্পর্কে যেমন অবহিত থাকবেন তেমনি অবগত থকবেন কখন কি পরিমান সার ও কীটনাশক প্রয়োগ প্রয়োজন সে বিষয়ে। একইভাবে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক পাবেন তার প্রয়োজনীয় ঋণ ও  আর্থিক সাহায্য। কত চমৎকার পরিকল্পনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যেমন খাল খনন করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে টেকসই উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। ঠিক একইভাবে তারেক রহমান কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ও পুরো কৃষি কাঠামোর আমুল পরিবর্তন করবেন ইনশাল্লাহ। এবার আসি শিক্ষায়। বিগত ১৬ বছরে পতিত স্বৈরাচার শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি হাস্যকর ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরিত করেছে। যেখানে ডিমভাজা, আলুভর্তা বানানো আর শরীফ হতে শরীফার গল্পের মত চরম অধর্ম আর নৈতিকতার অবক্ষয় শিক্ষা-দেওয়ার মহড়ায় ব্যস্ত ছিল। এর বিপরিতে দেখুন তারেক রহমান তার ৩১ দফার-মধ্যে শিক্ষাকে কিভাবে সংস্কার করা হবে তার সুচিন্তিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন এভাবে-“বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হইবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হইবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হইবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে এমন একজন দুরদর্শী সম্পন্ন ভিশনারী নেতা দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে আগমন করছেন। তাই সবাই এই মহৎ প্রাণ মানুষটিকে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের আলোকে অন্তরে ধারণ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। 

লেখক 

অধ্যাপক ড. মো: গোলাম ছারোয়ার  

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কীটতত্ত্ব বিভাগ
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)
মহাখালী, ঢাকা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155770