রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর, কমলাপুর, চর আষাড়িয়াদহ চর অঞ্চল ও খাল-বিলে হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদের সমারোহ। উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর নামাজ গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, ২০০০ সাল থেকে সরিষার ক্ষেতে মধু চাষ করে আসছেন তিনি।
শুরুর দিকে ১০টি মৌ বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হন। এরপরের বছর থেকে মৌ বাক্সের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতিটি বাক্সের ভেতরে ৬০ হাজার মৌমাছি থাকে আর বাক্সের ভিতরে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে। ৮-১০ দিন পর পর প্রতিটি বাক্সে বিশেষ পদ্ধতিতে বের করা হচ্ছে দেড় কেজি পর্যন্ত মধু। মাঠে বসেই এ মধু বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ টাকা কেজি দরে। সরিষার ফুল শেষ হওয়ার পর মার্চ মাসে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য নাটোর, ঠাঁকুরগাও, দিনাজপুর অথবা ঈশ্বরদীর কোন স্থানে বাক্সগুলো পাঠানো হবে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সরিষার মৌমাছি পালন করছি। এখানে মৌ খামারিদের উদ্দেশ্য মধু সংগ্রহ করা। আর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরিষার ফলন বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি মৌমাছি চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তোলা।
তিনি বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন মাঠে মধুচাষিরা এক হাজার বাক্সে মধু সংগ্রহ করছেন। মধু সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কেজি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মৌচাষিরা আসায় এসব এলাকায় সরিষার ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155703