দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তারেক রহমান বৃহস্পতিবার প্রিয় পিতৃভূমিতে আসছেন

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তারেক রহমান বৃহস্পতিবার প্রিয় পিতৃভূমিতে আসছেন

রাহাত রিটু : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার তার পিতৃভূমি বগুড়ায় আসছেন। বগুড়ার আলো, বাতাস, মাটি ও মানুষের একান্ত আপনজন তারেক রহমানের আগমনী ধ্বনীতে বগুড়ার প্রকৃতি নতুন রুপে সেজেছে। মাঘের মিষ্টি আবহাওয়ায় তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বগুড়ার লাখো মানুষ। বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা তারেক রহমান ইতোপূর্বে ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় আসার কথা থাকলেও বিধি নিষেধের কারণে তিনি তার প্রিয় ভূমিতে আসতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ের ১৯ দিনের মাথায় তিনি বৃহস্পতিবার বগুড়ায় আসছেন। তার হাতে গড়া বগুড়া শহর কেমন আছে তিনি দেখবেন, শহরে প্রবেশ করে। ১৯৯১ সাল থেকে বগুড়ার উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ তারেক রহমানের ভালোলাগা ভালোবাসা বলতে যা বোঝায় তাই ছিলো বগুড়া।

তার প্রচেষ্টায় বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন, শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের নতুন রুপ দেওয়া, বগুড়ার বনানী থেকে মাটিডালী এবং সাতমাথা থেকে স্টেশন রোড প্রসস্তকরণ, বিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন, জেলা প্রশাসনের কালেক্টরেট ভবন, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ ভবন, করতোয়া নদীর উপর একাধিক ব্রিজ নির্মান করে পূর্ব বগুড়ার সাথে পশ্চিম বগুড়ার মানুষের সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বগুড়া কোর্ট চত্বরে জজ কোট ভবন নির্মান, পর্যটন মোটেলের সংস্কার, দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক নির্মাণ, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, মাটিডালী বিমান মোড়ের সুন্দর্য্যবর্ধনে ফাইটার বিমান স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। প্রিয় ভূমির জন্য নিবেদিত এই কিংবদন্তির আগমনী ধ্বনীতে এ কারণেই বগুড়াবাসী আনন্দিত ও উৎফুল্ল।

১৯ বছর একমাস ৫ দিন পর বৃহস্পতিবার বগুড়ায় এসে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। তিনি নওগাঁ থেকে বগুড়ায় আসবেন এর মাঝে তার কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বগুড়ায় জনসভা শেষে তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত যাপন করবেন।

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলীতে বিএনপি উপজেলা শাখার প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তারেক রহমান রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। সেই সময় তিনি বগুড়ার দলীয় ইউনিটগুলিকে সক্রিয়ভাবে সংগঠিত করেন এবং রাজনীতিকে আরও উৎপাদন ও উন্নয়নমুখী করার জন্য অন্তর্নিহিত সংস্কৃতি পরিবর্তন করেন।

তারেক রহমান বিএনপির জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তার মা খালেদা জিয়ার নির্বাচনি এলাকার পাঁচটি নির্বাচনি এলাকায় জাতীয় নির্বাচনি প্রচারণার সমন্বয় সাধনের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়, যখন সামরিক সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারে রূপান্তর চলছিল, তারেক রহমান সক্রিয়ভাবে দলের পক্ষে সমর্থন সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য এবং নতুন সরকার গঠনের পর, তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দলের একটি সিনিয়র পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, তিনি উচ্চতর পদ গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেতে পছন্দ করতেন। বহু বছর ধরে তিনি বিএনপির বগুড়া ইউনিট গুলির উন্নয়নে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে তারেক রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি অর্থনৈতিক বঞ্চনার সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান এবং গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দুর্দশার কথা প্রচারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী পরামর্শ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভূমিধস বিজয় লাভ করে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপির শাসনামলে, ২০০৪ সালে ঢাকায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে, এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন, যার জন্য তাকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২৪ সালে, পুরো বিচারের কার্যক্রম “অবৈধ” বলে রায় দেওয়ার পর তাকে খালাস দেওয়া হয়।

২০০৮ সালের  ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির পর, তিনি সেন্ট জনস উডের একটি স্বাধীন বেসরকারি হাসপাতাল ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর  ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ২০২৫ এর ১৩ জুন তারেক রহমান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যিনি যুক্তরাজ্য সফরে ছিলেন। বৈঠকের পর, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেন। বিএনপি সূত্রগুলি এই বৈঠককে “একটি টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানের সাথে, ২০০৮ সাল থেকে নির্বাসিত জীবন শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর পাঁচ দিন পর তার মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ৯ জানুয়ারী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হন।

এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান‘র একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সইকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী,নওগাঁ,বগুড়া,গাইবান্ধা,রংপুর, সিরাজগঞ্জ,টাঙ্গাইল,গাজিপুর ও ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসারের কাছে দেওয়া চিঠি অনুযায়ী তারেক রহমান ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১২.২৫ মিনিটে  ঢাকা থেকে বিমানযোগে রাজশাহী অবতরণ করবেন।

দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শাহ মখদুম (রাহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। দুপুর ২ টায় রাজশাহী মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫ টায় নওগার কাজির মোড় এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করবেন।  এই সভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিবেন। বগুড়ার জনসভা শেষে তিনি হোটের নাজ গার্ডেনে রাত যাপন করবেন।

পরদিন ৩০ জানুয়ারি বিকেল পৌনে ৪ টায় রংপুরের পীরগঞ্জে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। বিকেল সাড়ে ৪ টায় রংপুর ঈদগাহে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিবেন। রাত ৯টায় তার রাত যাপনের জন্য নাজ গার্ডেনে ফেরার কথা। ৩১ জানুয়ারি তারেক রহমান দুপুর ২ টায় সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্ক এ নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিবেন। ওই দিন বিকেল ৪ টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় যোগদিবেন। রাতে ঢাকায় তার গুলশানস্থ  বাড়িতে ফিরবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155692