বগুড়া সারিয়াকান্দির ইউসিসিএ লিঃ এর কর্মচারীদের ৫০ মাসের বেতন বাকি
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিআরডিবির আওতাধীন সারিয়াকান্দির ইউসিসিএ লিমিটেডের কর্মচারীদের ৫০ মাসের বেতন বাকি। মানবেতর জীবনযাপন করছেন অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা। প্রায় সারাদেশের সকল কর্মচারীরা এ ধরনের সমস্যার শিকার হয়েছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে শাহীন আলম (৪২) উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিআরডিবির একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি পরিদর্শক পদে আবেদন করেন। পরে গত ২০১৪ সালে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিতে যোগদান করেন।
পরে তিনি জানতে পারেন এটি কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠান না। বরং সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিআরডিবির আওতাধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যার কর্মচারীদের বেতন হবে প্রতিষ্ঠানের আয় হতে। গত ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার বেতন চলমান ছিল। ২০১৭ সালের পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে বছরে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাসের বেতন পাচ্ছেন। আর বাকি ৬ থেকে ৭ মাসের বেতন তিনি পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত তার ৫০ মাসের বেতন বাকি রয়েছে।
গত কয়েকবছর ধরেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের বেতন রাজস্ব খাত থেকে হওয়ার কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এমতাবস্থায় শাহীন আলমের পরিবারের লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শাহীন আলমের মতো এ অফিসে আমিনুল ইসলাম নামের আরও একজন পরিদর্শক রয়েছেন, কামরুন নাহার কেয়া নামের একজন হিসাব রক্ষক, আব্দুল মোমিন ও সোহেল রানা নামের দুজন অফিস সহকারী, বদিউজ্জামান নামে একজন নৈশ প্রহরী এবং সকিনা বেগম নামের একজন ঝাড়ুদার পদে কর্মরত রয়েছেন।
তাদের পরিবারের লোকজনও একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলায় কর্মরত এসব ইউসিসিএ এর কর্মচারীদের মতো সারাদেশে কর্মরত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরাও একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শাহীন আলম বলেন, মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে একটি সরকারি চাকরিতে যোগদান করলাম। কিন্তু পরে জানতে পারলাম এটি সরকারি না। এখন প্রায় অর্ধেক বছর আমার পরিবার বেতন ছাড়া চলে। ঠিকমতো বাজার করতে পারছি না। পরিবারের সদস্যদের ভালো মন্দ খাওয়াতে পারছি না।
৩ ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি না। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অফিসে কাজ করি, ফিল্ডে সমিতি ভিজিট করি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাদের যেনো রাজস্ব খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি এইচএম হাসান আল মামুন নয়ন বলেন, কৃষকদের সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রামের উন্নয়নের জন্য গত ১৯৭২ সালে গ্রাম পর্যায়ে কৃষক সমবায় গঠনের পর এর কার্যক্রম খুবই ভালোভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু গত পলাতক সরকার এ সমিতির প্রতি একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
এতে এ সমিতিগুলো ফান্ডের অভাবে, পর্যাপ্ত ট্রেনিং এর অভাবে এবং কার্যকরী পরিকল্পনার অভাবে সারিয়াকান্দির ন্যায় সারা বাংলাদেশেই নিস্ক্রিয় হয়ে পরেছে। অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ছাড়া কোনও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব না। যা এ সমিতি করে থাকে।
তাই পল্লীর উন্নয়নে, কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিতে, অস্থির বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মধ্যসত্তভোগীদের বাদ দিয়ে সঠিক মূল্যে ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে এ সমিতিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনও বিকল্প নেই। তাহলেই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও বেতন পাবেন। আশা করছি নতুন সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155677