মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে সম্ভাব্য হামলাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনব্যাপী আকাশভিত্তিক সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক তৎপরতাকে শক্তিশালী একটি ‘আর্মাডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমান শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল জানায়, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বিস্তার এবং আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়াই এ মহড়ার উদ্দেশ্য।তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্থান কিংবা এতে অংশ নেয়া সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুশীলনের মাধ্যমে মূলত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বৃদ্ধি এবং শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দেয়া হচ্ছে।এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে একটি বড় মার্কিন নৌবহর। এই বিমানবাহী রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক রয়েছে। বহরের নিরাপত্তায় যুক্ত রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। পাশাপাশি জর্ডানে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) ওই ফোনালাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসনের বিরোধিতা করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কোনো পক্ষকেই তার আকাশ, স্থল বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
সূত্র: গার্ডিয়ান
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155568