রংপুরে তিস্তার চরে ভেঙেপড়া সড়কে ঝুঁকির মুখে তিনটি ভোটকেন্দ্র

রংপুরে তিস্তার চরে ভেঙেপড়া সড়কে ঝুঁকির মুখে তিনটি ভোটকেন্দ্র

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলের তিনটি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ভেঙে পড়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি ভোটের দিন প্রশাসনের যানবাহন চলাচল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নির্বাচনের আগেই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও রংপুর সিটির ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসনে মোট ১৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯২টি ভোটকেন্দ্রের ৭টি দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত।

কেন্দ্রগুলো হলো- কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মটুকপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর মটুকপুর বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিন কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৫। কেন্দ্রগুলো নদীর ওপারে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর-লালমনিরহাট সড়কের মিলনবাজার থেকে পশ্চিমে বিনবিনা এলাকায় গত বছরের বন্যায় কাঁচা সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ভেঙে যায়।

বর্তমানে শুকনো মৌসুমে স্থানীয়রা পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গঙ্গাচড়া উপজেলা সদর থেকে মহিপুর তিস্তা সেতু হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে কেন্দ্রগুলোতে যেতে হয়। বিকল্প হিসেবে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্গম এই তিনটি কেন্দ্রের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। ভোটের দিন দ্রুত প্রশাসনের গাড়ি পৌঁছাতে না পারলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই এলাকায় রাস্তা মেরামত করা হয় না। বন্যার সময় নিজেরাই চাঁদা তুলে সংস্কার করলেও বন্যায় পানির তোড়ে ফের ভেঙে যায়। এতে ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন সংকটের কারণে সময়মতো শহরে নেওয়া যায় না, ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আনা-নেওয়াতেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন জানান, সড়কটি সংস্কারে অনেক আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন জানালেও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। বিচ্ছিন্ন এই সড়কের কারণে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ হয়ে অন্তত ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হয়।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, সড়ক সংস্কারের আবেদন পেয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রকল্প গ্রহণে সমস্যা ছিল। আমি নিজেও লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ হয়ে ওই ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছি। দ্রুত বিষয়টি দেখা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155556