বগুড়ার আদমদীঘিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘিতে ফাত্তাহুন নেছা মিতা নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভোরে আদমদীঘি উপজেলা সদরের জিনইর গ্রামে স্বামী মোমিনের বাড়িতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বেলা ১১ টায় পুলিশ নিহত গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ রেখে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেয়।
আদমদীঘি থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে জিনইর গ্রামের ইনতাজ ফকিরের ছেলে আব্দুল মোমেনের সাথে একই উপজেলার উজ্জলতা গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের মেয়ে ফাত্তাহুন নেছা মিতার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামী আব্দুল মোমিন মাঝে মধ্যে নেশা করতো। এ নিয়ে তাদের প্রায় দাম্পত্য কলহ লেগে থাকতো। তিন মাস আগে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পারিবারিক অশান্তি নিয়ে গ্রামে সালিশী বৈঠক করেন।
ওই ঘটনার জের ধরেই গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে আব্দুল মোমিন তার স্ত্রী ফাত্তাহুন নেছা মিতাকে নির্যাতন করে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভোর রাতে গলায় দড়ির ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর লাশ দেখে তার শিশু সন্তান চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা আসেন এবং পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনার পর থেকে মোমেনসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে।
গৃহবধূ ফাত্তাহুন নেছা মিতার চাচা আব্দুর রশিদ জানান, তার ভাতিজি ফাত্তাহুন নেছা মিতাকে কৌশলে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155520