মাথা ব্যথা নাকি মাইগ্রেন, যেভাবে বুঝবেন

মাথা ব্যথা নাকি মাইগ্রেন, যেভাবে বুঝবেন

অফিসের চাপে হোক কিংবা পরিবারের চিন্তায় হোক অথবা পড়াশোনার চাপে কম বেশি মাথা ব্যথার শিকার অনেকেই। কারোর মাথা ব্যথা স্বাভাবিক আবার কেউ ভুগছেন অন্য কোনো রোগে, আবার অনেকেই মাইগ্রেনের শিকার।

তবে মাথা ব্যথা নিয়ে মাথাব্যথা করেন খুব কম মানুষই। কিভাবে পার্থক্য বুঝবেন মাইগ্রেন আর সাধারণ মাথা ব্যথার, তা জানাতেই আজকের আয়োজন।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক—

নিউরোলজিস্টরা বলছেন মাথা ব্যথা সাধারণত চাপ বা স্ট্রেসজনিত কারণে হয়। কিন্তু মাইগ্রেন একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। এতে মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা হয়, সঙ্গে বমি, আলো ও শব্দের কাছাকাছি এলেই অসহ্য অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। একে সাধারণ মাথাব্যথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
 
সাধারণ মাথা ব্যথা কী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় টেনশন-টাইপ হেডেক। এই সাধারণ মাথা ব্যথার লক্ষণ গুলো হলো মাথার দুই পাশে চাপ বা ভারী ভাব, কপাল ও ঘাড়ে টান, মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবে বাড়ে, আলো বা শব্দে সাধারণত তীব্র অস্বস্তি হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, স্ট্রেস কমানো ও সাধারণ ওষুধেই কমে সাধারণ মাথা ব্যথা।

মাইগ্রেনের ব্যথা কী

মাইগ্রেনকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি নিউরোলজিক্যাল রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মাইগ্রেনের লক্ষণ মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা, আলো, শব্দ বা গন্ধে অসহ্য অনুভূতি, বমি বা বমি বমি ভাব যা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যথা স্থায়ী হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে সাধারণ ওষুধে এই মাথা ব্যথা কমে না।

মেডিক্যাল জার্নাল জেএএমএ নিউরোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী মাইগ্রেন ও টেনশন-টাইপ হেডেক দুটি আলাদা মেডিক্যাল কন্ডিশন, দুটির ব্যথার ধরন, আক্রমণের প্যাটার্ন একেবারেই আলাদা। তবে, কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?

চিকিৎসকদের মতে, যদি মাসে বারবার মাথা ব্যথা হয়, ব্যথার সঙ্গে বমি বা চোখে ঝলকানি দেখা দেয়, আলো বা শব্দ সহ্য না হয়, সাধারণ ওষুধে কাজ না করে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, স্ট্রেস কমানো ও সাধারণ ওষুধে আরাম মেলে।

সাধারণ মাথা ব্যথা সাময়িক সমস্যা হলেও, মাইগ্রেন একটি দীর্ঘমেয়াদি নিউরোলজিক্যাল অসুখ। মাইগ্রেনের লক্ষণ বুঝলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155511