প্রশাসন পক্ষ নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নুরুল হক নুর

প্রশাসন পক্ষ নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নুরুল হক নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থেকে কোনো একটি পক্ষের হয়ে কাজ করে, তাহলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নুর বলেন, জনগণ চায় নিজের ভোট নিজে দিতে এবং সেই ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে। এই প্রত্যাশা বহুদিনের। তিনি জানান, তারা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রশাসন যদি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করে, তাহলে ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে যদি তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না।

নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ তুলে নুর বলেন, জনসংযোগের সময় তাদের নেতাকর্মীরা ট্রলার থেকে নামার মুহূর্তে হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। পুলিশ পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর কিছু ব্যক্তি নিজেরাই অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে সেটির ভিডিও ধারণ করে। দুঃখজনকভাবে, কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই সেই ভিডিও কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে যদি এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়—যেখানে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হয়েও বাধার মুখে পড়তে হয় এবং প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না নেয়—তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি ও বিদেশি অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে। তার আসনে একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ব্যবহার করে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে নুর বলেন, প্রকাশ্য জনসভায় বলা হয়েছে—নুর এমপি হলে ২০ বছরেও তার অস্তিত্ব থাকবে না। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, তাকে রাজনৈতিকভাবে ঠেকাতে তারা কতটা মরিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবু হুরায়রাসহ স্থানীয় নেতারা।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে এবং নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও তিনি ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155457