কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে তৈরি হচ্ছে কাঁচা মরিচের রসগোল্লা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে তৈরি হচ্ছে কাঁচা মরিচের রসগোল্লা

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: রসগোল্লা সুস্বাদু বাংলার ঐতিহ্য খাদ্য। যা যুগে যুগে বেশ পরিচিত ও বিখ্যাত। সৈয়দ মুজতবা আলী তার রম্য রচনায় ঝান্ডুদা নামক এক চরিত্রকে কেন্দ্র করে বিদেশের মাটিতে জনপ্রিয় খাবার এ রসগোল্লা নিয়ে বাঙ্গালীসুলভ ভালোবাসা ও হাস্যরসের বর্ণনা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এর আবেদন ও বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলেন।

যা এখনও সবার কাছে জনপ্রিয়। এর উৎপত্তিস্থল পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দু’টি রাজ্যই ভৌগোলিক ইঙ্গিত (জিআই) ট্যাগ পেয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে এদেশের গোপালগঞ্জের রসগোল্লাও জিআই লাভ করে। নাগেশ্বরীতে এখন নতুন সংযোজন কাঁচামরিচের রসগোল্লা। কচাকাটা বাজারে সাইনবোর্ডবিহীন মিষ্টির ছোট একটি দোকান বনফুল সুইটমিটে তৈরি হচ্ছে এ রসগোল্লা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বড় বড় পাত্র ভরে আসছে দুধ। সে দুধ থেকে তৈরি করা হচ্ছে ছানা। পানি নিংড়িয়ে সে ছানায় অনেকগুলো কাঁচা মরিচের পেস্ট দিয়ে বানানো হচ্ছে মন্ড। সবুজ রঙ ধারণ করা সে মন্ড থেকে কিছু কিছু করে নিয়ে গোল গোল বল তৈরি করে দেয়া হচ্ছে লোহার বড় একটি কড়াইয়ে আগে থেকে জ্বাল হওয়া হাল্কা চিনির সিরায়।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে জ্বাল ও নাড়াচাড়া। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো ফুলে-ফেপে বড় না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত। এরপর সেগুলো দেয়া হচ্ছে চিনি বা গুড়ের গাঢ় সিরায়। সেখানে সিরা চুষে কিছুক্ষণেই তা তৈরি হয় রসগোল্লায়। এরপর তা পরিবেশিত হয় খাবার টেবিলে। সাধারণত রসগোল্লার স্বাদ সুমিষ্ট হলেও এগুলোর স্বাদ ঝাল-মিষ্টি। এর স্বাদ নিতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। ধীরে ধীরে বাড়ছে এর প্রচার ও প্রসার।

দোকানের র‌্যাকে স্তরে স্তরে সাজানো সাদা, লালচে বাদামী ও সবুজ রঙের স্পঞ্জ, সাধারণ, শুকনা কয়েক রকমের মিষ্টি। কেউ বসে খাচ্ছেন, কেউ প্যাকেটে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষেই নিচ্ছেন কাচা মরিচের রসগোল্লা।

দোকান মালিক রিয়াজুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর শীত এলেই চাহিদা বাড়ে কাঁচা মরিচের রসগোল্লার। দুই বছর থেকে তার দোকানে তৈরি করা হচ্ছে কাঁচা মরিচের এ রসগোল্লা। এর স্বাদ পেতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আসেন এখানে। অন্যান্য মিষ্টির মতই ২৪০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন কাঁচা মরিচের এ রসগোল্লা। এছাড়াও ২০ ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হয় তার দোকানে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155399