নওগাঁয় বল সুন্দরীতে বাজিমাত দুই তরুণের

নওগাঁয় বল সুন্দরীতে বাজিমাত দুই তরুণের

নওগাঁ প্রতিনিধি: কাঁচা সবুজ আর পাকলে সিঁদুর লাল কিংবা হলুদ। দেখতে অনেকটা বলের আপেলের মতো। খেতেও ঠিক আপেলের মতো সুস্বাদু। নামটা অদ্ভুত হলেও দেখতে আকর্ষণীয়। রসালো সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ফলটির নাম বল সুন্দরী। সাধারণত এ ফল অস্ট্রেলিয়ায় চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশেও কিছু কিছু জায়গায় এ ফলের চাষ হচ্ছে। বাজারে এর চাহিদা বেশি হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এক একটি গাছ ৫-৬ হাত লম্বা।

এ বড়ই চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের দুই বন্ধু তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাব্বি হাসান ও শাহাদত হোসেন। বল সুন্দরী ফল চাষ করে ইতোমধ্যে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। আর দূর-দূরান্ত থেকে অনেক বেকার তরুণরা এসে দেখছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। আর তাদের এ সাফল্য দেখে অন্যরাও ঝুঁকছেন বড়ই চাষে।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাব্বি হাসান বলেন, ২০১৮ সালে এসএসসি পাস করার পর বেকার হয়ে পড়েন। তখন তার বন্ধু শাহাদত হোসেন মিলে পরামর্শ করেন কিভাবে তারা ওপরে উঠবেন। এই চিন্তা থেকে পার্শ্ববর্তী বদলগাছী উপজেলার তুরান ভাই এর বড়ই এর বাগান দেখে তারা উদ্বুদ্ধ হন। এরপর ২০২০ সালে দুই বন্ধু মিলে মাত্র ২ বিঘা জমিতে বড়ই বাগান শুরু করেন।

এরপর তাদের চিন্তুা ভাবনা কিভাবে আরও বড় বাগান বাড়ানো যায়। কিন্তু তাদের তেমন টাকা নেই। সে সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়। পরে তারা ভালো বল সুন্দরীর চারা, সার ও কীটনাশক প্রদান করেন। এখন তাদের বল সুন্দরীর বাগান ১১ বিঘাতে দাঁড়িয়েছে। তবে তদের এ কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন মৌসুমীর কৃষি কর্মকর্তারা।

মৌসুমীর কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, উচ্চ ফলনশীল কুল চাষ করে নওগাঁর দুই বেকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাব্বি ও শাহাদত বেশ লাভবান হয়েছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষে খুবই উপযোগী। খুব অল্প সময়ে কুল চাষে যেভাবে তারা সফলতা পেয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। এতে করে বেকারত্ব দূর করার পাশাপশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও আসবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155391