বিনাচাষে সরিষার আবাদ করে লাভবান সারিয়াকান্দির কৃষক
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : প্রতি বছরের মত এ বছরও সারিয়াকান্দিতে বিনাচাষে ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ হয়েছে। অসময়ে পতিত জমিতে বাড়তি এ ফসল ঘরে তুলতে প্রস্তুত কৃষক। ফলন ভাল হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের।
বগুড়া সারিয়াকান্দির বেশকিছু জমিতে কৃষকরা শুধুমাত্র দুইটি মৌসুমে ধানের ফসল ফলান। এগুলো হলো বোরো মৌসুম এবং আমন মৌসুম। এ দুই ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৩ মাস ফসলি জমিগুলো প্রায় পতিত হয়েই থাকে। গত কয়েকবছর ধরেই কৃষকরা এসব জমিগুলো পতিত না রেখে সরিষার আবাদ করছেন। এ ফসল চাষের মাধ্যমে তারা বাড়তি ফসল ঘরে তুলছেন এবং লাভবানও হচ্ছেন।
সাধারণত কৃষকরা জমিতে বিনা চাষেই সরিষার আবাদ করেছেন। এতে এ ফসল চাষে তাদের খরচ খুবই কম। কেউ বা জমিতে দু একটি চাষ দিয়েও সরিষার আবাদ করছেন। গত কয়েকদিন আগে বপন করা সরিষার গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে তাতে সরিষা ধরেছে এবং দানাও বেশ ভালো হয়েছে।
অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই যা পরিপক্ব হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকরা এসব পরিপক্ব সরিষা জমি থেকে উত্তোলন করে মাড়াই করবেন। এদিকে বাজারে প্রতিমণ সরিষা ৩৮শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।
উপজেলার নারচী ইউনিয়নের টিওর পাড়া গ্রামের কৃষক জুল্লু মিয়া (৫৫) বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করে ১৮ মণ সরিষা পেয়েছিলাম। যা বাজারে ভালো দামে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলাম। এ বছরও ৪ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ভালো ফলনও হয়েছে। সরিষাগুলো পরিপক্ব হওয়া শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরিষা উত্তোলন করা শুরু হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ উপজেলায় ৩২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। যার বিপরীতে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে উৎপন্ন হয়েছে।
গত বছর উপজেলায় হেক্টর প্রতি ১.৬ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হয়েছিল। এটি সাধারণত বপনের ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গত কয়েকবছর ধরেই কৃষকরা বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন।
সরিষা থেকে একদিকে যেমন তেল এবং খৈল পাওয়া যায়, অপরদিকে শুঁকনো উদ্ভিদ কৃষকরা জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন। এ ধরণের ফসল চাষ ব্যাপকভাবে হলে সয়াবিন তেলের উপর চাপ কমবে এবং অপরদিকে খাঁটি সরিষার তেল রান্নার কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155387