রংপুর অঞ্চলে ভোটের আগেই বোরো চারা রোপণের ধুম
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: রংপুর অঞ্চলে শীত ও শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করেই বোরো ধান আবাদে মাঠে নেমেছেন কৃষক। তবে এবারের আবাদে আনন্দ নেই। আছে দুশ্চিন্তা। একদিকে নির্বাচনের প্রচারণার কারণে শ্রমিক সংকটের ভয় অন্যদিকে কৃষি উপকরণের আকাশচুম্বী দাম। সব মিলিয়ে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদন খরচ নিয়ে দিশেহারা রংপুরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের ডামাডোল শুরু হওয়ার আগেই কৃষকরা চারা রোপণের কাজ শেষ করতে চাইছেন। তাই তীব্র শীতসহ শত প্রতিকূল অবস্থাতেও বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। কেউ শুকনো জমিতে পানি দিয়ে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করছেন। কেউ বা বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে চারা রোপণ শুরু করেছেন।
গঙ্গাচড়ার কৃষক সাদেকুল জানান, আগে প্রতি ঘণ্টা সেচ ১২০-১৩০ টাকায় মিললেও এখন তা ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে আগের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।
নগরীর চব্বিশ হাজারী গ্রামের হাছান আলীসহ স্থানীয় সেচযন্ত্র মালিকরা বলছেন, লোকসান দিয়ে পানি দেওয়া সম্ভব নয়। দুই বছর আগেও যে ডিজেল ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১০২ টাকার ওপরে। এর সাথে মবিল ও যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২০০ টাকার নিচে সেচ দেওয়া অসম্ভব।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় (নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম) এ বছর ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের আঞ্চলিক পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে বীজতলা যাতে নষ্ট না হয় আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।
তবে ডিজেলে দাম বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে সেচের দাম বেশি নিলে উৎপাদন খরচ অবশ্যই বাড়বে। তারপরও কৃষকদের যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155308