জয়পুরহাটের কালাইয়ে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামী পরিত্যাক্তা নারীর বাড়িতে হামলা
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠেছে আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা উপজেলার পুনট ইউনিয়নের হাটশেখা হিন্দু পল্লিতে ঘটে। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগ সূত্র ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেলে হাটশেখা হিন্দু পল্লির মনোরঞ্জন বর্মণের স্বামী পরিত্যাক্ত এক সন্তানের জননী রঞ্জনা বর্মন বাড়ির পাশে মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুঁটে নিতে যান। এসময় পাশের ইমামপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকেন। তখন রঞ্জনা চিৎকার করতে করতে হাতে থাকা ঝাড়ুদিয়ে আব্দুর রহিমকে ২/৩ টি আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আব্দুর রহিম সেখান থেকে চলে যান।
ওই ঘটনার জেরে দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুর রহিম ১১/১২ জন লোক সাথে নিয়ে হাটশেখা হিন্দু পল্লিতে ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান। ভুক্তভোগী রঞ্জনা বর্মন বলেন, স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেই। এরপর মেয়েকে এলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেই।
প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রহিম আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। মানসন্মানের ভয়ে তাকে কিছুই বলিনি। গতকাল শনিবার যখন আমি মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুঁটে নিতে যাই, তখন সে পিছন থেকে এসে আমার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে। আমি ওর হাত থেকে ছুটতে চেষ্টা করার পাশাপশি চিৎকার করতে থাকি। একপর্যায়ে রহিম আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিতে থাকলে পাশে পড়ে থাকা ঝাড়ু দিয়ে ২/৩টি আঘাত করেছি।
রাতে আবার রহিম লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে ঢুকে টিনের বেড়া ও ঘরের ছাউনি ভাঙচুর করেছে। আবার সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দিয়েছে। আমি সকালে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে ঝাড়ু দিয়ে মারার কারণে বিচার নিতে রাতে লোকজন নিয়ে রঞ্জনাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।
ভাঙচুর ও ভয়ভীতির অভিযোগ সত্য নয়। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155303