ঢাবিতে ছাত্রদলের চাঁদাবাজির ভিডিও প্রজেক্টরে দেখালো ডাকসু
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদলের চাঁদাবাজির অভিযোগ সংবলিত কয়েকটি ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিনিধিরা।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কার্যালয়ে একটি বড় পর্দায় ভিডিওটি প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকান বসানোর বিনিময়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়, যেখানে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়েছে। ভিডিও প্রদর্শনের সময় সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী, দোকানদার ও পথচারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টিকে ‘অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর আগে কখনো রাজনৈতিক অভিযোগ এভাবে প্রকাশ্যে প্রজেক্টরে দেখানো হয়নি। কেউ কেউ এটিকে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখলেও, আবার অনেকে এটাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার বলেও মন্তব্য করেন।এদিকে ভিডিও প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তাদের দাবি, বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে ভিডিও তৈরি ও প্রচার করছে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে-কিছু বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে দোকান বাণিজ্যের নামে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ছাত্রদলের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের অনিয়ম আড়াল করতেই ছাত্রদলকে জড়িয়ে মিথ্যা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, ভিডিওটি খণ্ডিত ও প্রসঙ্গচ্যুতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155216