সবচেয়ে বেশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র যে দেশের হাতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হাইপারসনিক মিসাইল মানেই ধাবমান আতঙ্ক। এই আধুনিক সমরাস্ত্রের সময়ে যার হাতে এই ধরনের জাদুর পাখি যতো বেশি আছে, বিশ্ব দরবারে তার কদর ততো বেশি। তাই এমন মারণাস্ত্র তৈরির উন্মাদ উত্তেজনায় মেতেছে বিশ্ব পরাশক্তিরা।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে হাইপারসনিক মিসাইল বা অতি-উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের দিক থেকে বর্তমান বিশ্বে চীন শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে।
যদিও দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে এই সামরিক প্রযুক্তির প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত পেন্টাগনের এই রিপোর্ট আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত দুই দশকে বেইজিং তাদের হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে যা গত এক বছরে আরও বেগবান হয়েছে। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রচলিত এবং পারমাণবিক উভয় ধরণের হামলার উপযোগী হাইপারসোনিক মিসাইলের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।
পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, চীনের এই সামরিক উৎকর্ষের মূলে রয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেটে বিশাল বরাদ্দ এবং আধুনিক প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা। বিশেষ করে শি জিনপিং চীনের ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির সামরিক বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এই মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়নে।
হাইপারসোনিক মিসাইল বলতে মূলত এমন এক ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝানো হয় যা শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ সময় উড়তে পারে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অভাবনীয় গতি এবং মাঝপথে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা।
সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইল একটি নির্দিষ্ট পথে চললেও হাইপারসোনিক মিসাইলগুলো অত্যন্ত চটপটে হওয়ায় শত্রুদেশের রাডার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোর গন্তব্য নির্ধারণ করা কিংবা মাঝপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি রকেট ফোর্স বর্তমানে ওয়াই-জে ২১ এর মতো উন্নত মানের অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল পরিচালনা করছে। এগুলো বিমান থেকেও উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এছাড়া ২০২৫ সালের সামরিক প্রদর্শনীতে সিজে-১০০০ এবং ওয়াই-জে ২০ এর মতো নতুন প্রজন্মের আরও শক্তিশালী হাইপারসোনিক সিস্টেমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে যা দেশটির কৌশলগত শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে চীনের এই একক আধিপত্যের দাবি নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে ভিন্ন মতও রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন যে হাইপারসোনিক প্রযুক্তিতে তারাই বিশ্বের সেরা। রাশিয়ার হাতে থাকা অ্যাভানগার্ড হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকেল এবং জিরকন ক্রুজ মিসাইলগুলো এর প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়।
এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা মনে করে, মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া এখনো চীনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে যুক্তরাষ্ট্রও পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। তারাও তাদের নিজস্ব হাইপারসনিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। মূলত দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তার এবং বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হাইপারসোনিক প্রযুক্তির এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি কেবল এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নয়, বরং গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা সমীকরণকে বদলে দিচ্ছে যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155195