গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শত বছরের বাঁশশিল্প বিলুপ্তির পথে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শত বছরের বাঁশশিল্প বিলুপ্তির পথে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গ্রামীণ জনপদে একটা সময় বাঁশঝাড় ছিল না এমনটা কখনও কল্পনাও করা যেতো না। যেখানে গ্রাম সেখানেই ছিলো বাঁশঝাড় আর বেত। কিন্তু বর্তমানে জনজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে, যার প্রধান কারণ প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এবং বাঁশের দাম বৃদ্ধির কারণে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এই শিল্পে জড়িত প্রায় ৪ শতাধিক বাঁশফোর পরিবারের কারিগররা ন্যায্যমূল্য, পুঁজি ও সঠিক উদ্যোগের অভাবে পেশা পরিবর্তন করছেন। আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার পৌর শহরের পাটনি পাড়ায় প্রায় ২ শতাধিক বাঁশফোর পরিবার তাদের নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে বাঁশের শৌখিন বাহারি পণ্য।

এখানে তারা কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। তাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এখনও টিকে আছে বাঁশের কাজ। নারী পুরুষ উভয়ে বাড়িতেই কুটির শিল্পের কাজ করে জীাবকা নির্ভর করে। নারী পুরুষ ও কিশোর কিশোরীদের বাঁশের কাজ তাদের প্রধান পেশা।

কম বেশি সারা বছরই তারা বাঁশের কাজ করে থাকে। তাদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় হাত পাখা, কলমদানি, প্রিন্ট ট্রে, পেন হোল্ডার, সোবার, ফুলদানি, টি-টেবিল ঝুড়ি কুলো, চাইলোন, ঢাকি, ঢালি, মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগির খাঁচা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা, মোড়া, বুকসেলফসহ নানা ধরনের জিনিস তৈরি করছে তারা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করে জীবন চালাচ্ছে।

বাঁশের কাজ করা গীতা রাণী দাশ (৫০) বলেন, আমি ৩০ বছর যাবত এই বাঁশের কাজ করে আসছি এখনও করি আগের মত কাজ হয় না বাঁশের দাম বেশি মজুরি বেশি আর বাজারে প্লাস্টিকের পণ্য আসার কারণে এখন আর বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র নিতে চায় না। এই কাজ এখন বিলুপ্তির পথে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/155176