ব্যারিস্টার ফুয়াদের প্রচারণায় বাধা ও হামলা, জামায়াতের বিক্ষোভ
বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। ১০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মুলাদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় মুলাদী উপজেলার ঈদগাহ ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ফুয়াদ ভাইয়ের কর্মীদের ওপর হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব চাই স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং হামলায় আহত জামায়াত নেতা মো. আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ঈগল প্রতীকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক মুলাদী পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, ধাওয়া দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
আরিফ হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় সফিকুল ইসলাম শাওন হাওলাদার, আরিফুর রহমান টিটু, মিন্টু বেপারীসহ অর্ধশতাধিক যুবদল কর্মী জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে বরিশাল-৩ আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পক্ষে ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামী মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আরিফ বয়াতির নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা। এ সময় যুবদলের মুলাদী পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক সাওন হাওলাদার ও তার অনুসারীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রচারণায় বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় আরিফ বয়াতিকে মারধর করা হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে একাধিক কর্মী আহত হন। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুলাদী পৌরসভার চর টেকি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা কিল, ঘুষি ও লাঠি ব্যবহার করে নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা করে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই এ হামলার মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।