মাল্টা চাষে সফল আশরাফুল ইসলাম ২০ লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা

মাল্টা চাষে সফল আশরাফুল ইসলাম ২০ লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম এখন একজন সফল মাল্টা চাষি হিসেবে পরিচিত। এক সময় স্থানীয় মানুষের সেবায় ব্যস্ত থাকা আশরাফুল ইসলাম কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টা চাষে হাত দিয়ে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য।

উপজেলার হরিশ্চন্দ্র পাঠ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন (রাডারডিপি) প্রকল্পের আওতায় তিনি ২০১৭ সালে রাজস্ব কর্মসূচির আওতায় বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে বারি মাল্টা-১ জাতের ৫০টি চারা রোপণ করেন।

২০২০ সালে আবারো তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে ১০০টি এবং পরবর্তীতে ৮৬টি চারা রোপণ করেন। তিন বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করলে তিনি আরও উৎসাহিত হন। বর্তমানে তার বাগানে মোট ২৩৬টি গাছে প্রায় ৫০০ মণ মাল্টার ফলন হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে মাল্টা হলুদ হতে শুরু করায় স্থানীয় পাইকাররা প্রতি মণ মাল্টা ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

মাল্টা চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে তিনি মাল্টা চাষে আগ্রহী ছিলেন না। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একপ্রকার জোরাজুরিতেই তিনি এ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তবে খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছর মাল্টা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। তার মাল্টার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকার অনেক কৃষক নিজেদের আম ও কাঁঠালের বাগান কেটে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, আশরাফুল ইসলাম একজন তালিকাভুক্ত কৃষক। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও উত্তরাঞ্চলের মাটিতে মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রাডারডিপি প্রকল্পের আওতায় এ এলাকায় প্রথম মাল্টা চাষ শুরু হয় এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154585