বগুড়ায় ৬শ’ কোটি টাকার সরিষা ও এক কোটি টাকার মধু উৎপাদনের লক্ষ্য
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে ৬শ’ কোটি টাকার সরিষা এবং এক কোটি টাকার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বগুড়ার কৃষি বিভাগ। তবে সরকারি প্রকল্প না থাকায় কমেছে মধুর উৎপাদন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া সূত্র বলছে, বগুড়ায় চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে ৭৫ হাজার ২৬ মেট্রিকটন সরিষা চাষ হয়েছে। প্রতি কেজি সরিষার দাম ৮০ টাকা ধরলে উৎপাদিত সরিষার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৬শ’ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর বগুড়ায় আবাদকৃত সরিষার জমি থেকে ২৫ মেট্রিকটন মধু সংগ্রহের কথা জানিয়েছে এই দপ্তর।
প্রতি কেজি মধুর দাম ৪শ’ টাকা ধরলে সংগৃহিত মধুর বাজার মূল্য দাঁড়ায় এক কোটি টাকা। মোট ৮৮ জন উদ্যোক্ততা বগুড়ার মাঠে থাকা সরিষার জমি থেকে মধু সংগ্রহে তাদের প্রতিপালিত মৌমাছি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বগুড়ায় বিগত বছরগুলোতে মধু সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বগুড়া কার্যালয় কাজ করলেও এ সংক্রান্ত প্রকল্প না থাকায় মধু উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। বিগত বছরগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিকটন পর্যন্ত মধু উৎপাদন হলেও এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ মেট্রিকটনে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারিভাবে মধু উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও কয়েক বছর তা বন্ধ রয়েছে। বিসিক বগুড়া থেকে বেশ কয়েকটি মৌসুমে বগুড়ায় ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিকটন পর্যন্ত মধু উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম-সরিষা থেকে সংগৃহিত মধু।
এছাড়া লিচু, বরই, আমের মুকুল থেকেও মধু সংগ্রহে মৌমাছি প্রতিপালনকারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হতো। এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয় বগুড়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, মধু উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বিসিক বগুড়া জেলা কার্যালয় নানাভাবে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করে আসছে।
বিশেষ করে বাজারজাতকরণে বিসিক’র খাঁটি মানের নিশ্চিয়তা ও বিভিন্ন মেলাতে স্টল বরাদ্দে ব্যবস্থা, মধু চাষে মৌমাছি প্রতিপালন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করা হতো। তবে মধু উৎপাদনে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদুর রহমান বলেন, সরিষার জমি থেকে মধু সংগ্রহ করতে জেলায় ৮৮ জন উদ্যোক্তা কাজ করছেন। এ মৌসুমে ২৫ মেট্রিকটন মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। সরিষা ছাড়াও লিচু, আম ও বরই থেকেও মধু সংগ্রহ করা হয়, তবে সরিষার ফুল থেকেই বেশিরভঅগ মধু সংগ্রহ হয়ে থাকে।
এদিকে মধু উৎপাদনকারী উদ্যোক্তরা বলছেন, সরিষা চাষ মৌসুমে প্রতিটি বাক্স থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল থাকতে হয়। আগাম ও নাবী সরিষা চাষের ফলে প্রায় তিন মাস শুধু সরিষার ফুল থেকে সর্বাধিক পরিমাণ মধু সংগ্রহ হয়। সরিষার পর বরই, আম, লিচুর ফুল থেকেও মধু সংগ্রহ হয়।
শীতকালে কালোজিরা, জ্যৈষ্ঠ মাসে তিল ও বাদাম ফুল থেকে শেষ মধু সংগ্রহ করা হয়। ৫০টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ১১০ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। মধু সংগ্রহ করতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। বছরের প্রায় ছ’মাস মধু সংগ্রহ করা গেলেও আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ এই ছ’মাস মৌমাছিকে বিকল্প খাবার দিতে হয়।
দুই ভাগ চিনি ও এক ভাগ পানি মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করে মৌমাছির বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। ‘ফাউল ব্রুড’ রোগ মৌমাছির একটি মারাত্মক ব্যাধি। এছাড়াও আরও কিছু সংক্রামক রোগ ও উপদ্রবের কারণে মৌচাক নষ্ট হয়ে যায়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154492