নওগাঁর আত্রাইয়ে ফসলি জমি থেকে রাতে মাটি কাটার হিড়িক
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ফসলি জমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। ফসলের মাঠ ও বিভিন্ন খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে তা বাণিজ্যিকভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ ও কৃষি জমি মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি উপজেলার জগদাস, শিকারপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এসব মাঠের ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিকে রাতের অন্ধকারে এসব মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। আর বাণিজ্যিকভাবে এ মাটিগুলো চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীদের স্পটে। এদিকে এ মাটিগুলো পরিবহণ করা হচ্ছে ড্রামট্রাক ও অনুমোদনহীন ট্রাক্টর দিয়ে। ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে মাটি পরিবহণ করতে গিয়ে রাস্তায় প্রচুর মাটি পড়ে যায়। যা শীতের কুয়াশায় কাদাযুক্ত হওয়ায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এদিকে এসব মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদেরকে বাঁধা দেয়ার সাহস কেউ পাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটি ব্যবসায়ীরা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে জমির উর্বরতা বিনষ্ট হচ্ছে এবং আসন্ন বোরো মৌসুমে এর বিরুপ প্রভাব কৃষকদের উপর পড়বে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, টপসয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বরতা স্তর যা জৈব খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। সাধারণত মাটির উপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত এ স্তর থাকে। এটি ফসল উৎপন্নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ টপসয়েল কেটে নিয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ আলাউল ইসলাম বলেন, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হেব।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154227