পাবনার ভাঙ্গুড়ায় হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনা ভাঙ্গুড়া উপজেলা জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। ফসলের মাঠের হলুদ রাজ্যে গুঞ্জনে মুখরিত মৌঁমাছির দল। মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের অপরুপ দোলাচালে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। শীতের সকালের নরম রোদে উপজেলার মাঠগুলো যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন শুধু ফসলের মাঠ নয়, বরং কৃষকের স্বপ্নের রাজ্য।

এক সময় লাভ না হওয়া ও অব্যাহত লোকসান গুনতে থাকায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা তথা চলনবিল অঞ্চলে সরিষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিলেন চাষিরা। এখন স্বপ্ন দেখছেন বাম্পার ফলনের। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছে। বিনামূল্যে পাওয়া উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা ফলনে কৃষকের প্রশান্তির হাসি দীর্ঘ হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় গত বছরে প্রায় ৬হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়ে ছিলো। উৎপাদন হয়েছিল ১১হাজার ২৭০মে.টন সরিষা যা হেক্টর প্রতি ১দশমিক ৫১ মে. টন সরিষা উৎপাদন হয়ে ছিলো।

ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর উপজেলায় সরিষার চাষ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিভাগ। স্থানীয় কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, শুধু ধান চাষ করলে হবে না পাশাপাশি ভুট্টা, সরিষা, আলু, সূর্যমুখী ফুল, পাট, তিল, গবাদি প্রাণীর ঘাসসহ অন্যান্য ফসল চাষের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পৌর এলাকা, ভাঙ্গুড়া, খানমরিচ, দিলপাশার, অষ্টমনিষা, পারভাঙ্গুড়া ও মন্ডতোষ ইউনিয়নে দু’শতাধিক কৃষক প্রতিজন ১৫ থেকে ৩০বিঘা জমিতে অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমীন জাহান বলেন, কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় বারি-৮, বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৪, বিনা-৯, বীজ সরবরাহ ও বিতরণ করা হয়েছে। বারি-১৪ সহ অন্যান্য জাতের সরিষা বপনের মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এ সরিষা উত্তোলন করে বোরো আবাদ করতে পারেন বলে কৃষকরা একে ‘লাভের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তিনি আরো জানান, বারি-১৪ সরিষার গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে।

অপর দিকে চলতি মৌসুমে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে মধু ব্যবসায়ীরা সরিষা ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপন করে মধু উৎপাদন করে দেশের মধুর চাহিদা মেটাচ্ছে। এ জাতের সরিষা আবাদের পর ওই জমিতে বোরো আবাদে সারের পরিমাণ কম লাগে। তাই এ জাতের সরিষা চাষের জন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154218