মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো গণমাধ্যম সম্মিলন

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো গণমাধ্যম সম্মিলন

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে অনুষ্ঠিত হলো গণমাধ্যম সম্মিলন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।

এতে গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন গণমাধ্যমকর্মীরা।বক্তারা বলেন, ঐক্য-সমঝোতা আগামী দিনে খুবই দরকার। কোন সরকারই সাংবাদিকদের কাছের নয়। দেশ যখন স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে তখনই গণমাধ্যমে আঘাত এসেছে। একটা পরিবর্তনের মাধ্যমে এখন সময় এসেছে নৈতিকতা সম্পন্ন সাংবাদিকতা করার।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, মিডিয়া, রাষ্ট্র ও রাজনীতির গণতান্ত্রিক সংস্কারের  জন্য যখন লড়াই হচ্ছে তখনই প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক। যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, অন্যান্য শিল্প খাতে বিনিয়োগের মতো মানসিকতা নিয়ে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করলে গণমাধ্যম কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। সাংবাদিকতাকে তিনি ‘সামাজিক ডাক্তার’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা ও দুর্বলতাগুলো তুলে ধরেন সমাজকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই। ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা জনগণ গ্রহণ করবে না। সাংবাদিকতা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মূলত একটি সমাজসেবামূলক পেশা। 

দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক সহ এতে অংশ নেন নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকরাও।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154172