প্রেমিককে আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ
সুনামগঞ্জ থেকে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে ভোলার মনপুরায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী। লঞ্চে তুলে দেওয়ার কথা বলে পথিমধ্যে প্রেমিককে মারধর করে আটকে রেখে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের শ্রী নারায়ণপুর এলাকার ওই তরুণীর সাথে মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের একটি কারখানার শ্রমিক মো. সজিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে গত বুধবার ওই তরুণী সজিবের সাথে দেখা করতে মনপুরায় আসেন। বিয়ে না হওয়ায় স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা সজিবের চাচার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সালিশের মাধ্যমে ওই তরুণ-তরুণীকে ইদ্রিস মাঝি নামে এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়। সেখান থেকে মাকসুদ, আলামিন ও শাহিন নামের তিন ব্যক্তি তাদের ঢাকা অভিমুখী লঞ্চে তুলে দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নিয়ে বের হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, পথিমধ্যে ৭নং ওয়ার্ডের নতুন বেড়ি এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা প্রেমিক সজিবকে মারধর করে আটকে রাখে। এরপর মাকসুদ ও আলামিন তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এদিকে, সজিব কৌশলে তাদের কবল থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী ভুট্টো মাঝির বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চান।
ভুট্টো মাঝি জানান, রাত ১২টার দিকে সজিব চিৎকার করতে করতে তার বাড়িতে আসে। এলাকাবাসীকে নিয়ে খুঁজতে বের হলেও তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালক শাহিন ওই তরুণীকে নিয়ে ভুট্টো মাঝির বাড়িতে হাজির হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত চক্রের হাত থেকে তরুণীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সে সময় উপস্থিত সবার কাছে ওই তরুণী তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ভুক্তভোগী তরুণী ও সজিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, 'ভিক্টিম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'