নওগাঁয় ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাসের জন্য প্রতিজনকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা 

নওগাঁয় ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাসের জন্য প্রতিজনকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা 

নওগাঁ প্রতিনিধি: সম্প্রতি নওগাঁর টিটিসিতে ড্রাইভিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের পরীক্ষায় পাস করার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। টিটিসি ড্রাইভিং বলতে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকে বোঝানো হয়, যেখানে হালকা ও ভারী গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়মকানুন এবং গাড়ির প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ শেখানো হয়। যা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য খুবই কার্যকর। নওগাঁর বিআরটিএ অফিস যেন কোন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করে না দেয় সেই জন্য প্রতিজন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা উত্তোলনের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন।

কিন্তু বিষয়টির সাথে কারো কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে নিজেদের নির্দোষ মনে করছেন বিআরটিএ’র কর্তা ব্যক্তিরা। গত ডিসেম্বর মাসের ২৮ তারিখে নওগাঁ টিটিসি কেন্দ্রে শেষ হয়েছে ৪ মাস ব্যাপী ডাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্স। সেই কোর্সের একজন শিক্ষার্থী বগুড়ার শামীম। তিনি জানান, গত ২৮ডিসেম্বর প্রশিক্ষণের শেষ দিনে কোর্সের স্যাররা এসে বলেন, বিআরটিএ যেন কোন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করে না দেয় সেই জন্য প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। স্যারের কথামতো দুইজন বড় ভাই প্রথম ব্যাচের ২৫জন ও দ্বিতীয় ব্যাচের ২৪জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা তুলে স্যারদের দিয়েছে। অথচ আমরা জানি এই কোর্স করতে কোন টাকা কোথাও দিতে হয় না। এই কোর্স সম্পন্ন বিনামূল্যের কোর্স। টাকা দিয়েই যদি পাস করতে হবে তাহলে সরকারিভাবে করার কী দরকার। বাইরে গিয়ে দালালদের মাধ্যমেই করা ভালো।

নওগাঁ টিটিসির অতিথি প্রশিক্ষক (ড্রাইভিং) মো: ওয়ালীউল্লাহ সনি জানান, শুধু নওগাঁ নয় সারা দেশের এই কোর্স পরিচালনা করতে গিয়ে বিআরটিএ কে ম্যানেজ করতে হয়। যদি ম্যানেজ করা না হয় তাহলে বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষায় প্রশিক্ষণার্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়। এতে করে কোর্সের সাথে জড়িতদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

নওগাঁ বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো: রাশেদুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নওগাঁতে নতুন। বিষয়টি তার জানা নেই। আর পরীক্ষায় পাস করে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্স কমিটির সভাপতি জান্নাত আরা তিথি জানান, কোর্স শেষে পরীক্ষায় পাস করে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি ভুক্তভোগীরা অভিযোগ প্রদান করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/154020