একদিনের জন্যেও চালু হয়নি রংপুর চিনিকলের নবনির্মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার
মহিমাগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : সাড়ে আট কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রংপুর চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু না হতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও একদিনের জন্যেও চালু করা হয়নি এটি। চিনিকল বন্ধ থাকায় ব্যবহারের অভাবে ঝোপ-জঙ্গলে ঢাকা পড়ে ও রোদ-জলে দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এটি। একই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীন পরিকল্পনার কারণে রংপুর চিনিকল ছাড়াও দেশের আরও পাঁচটি চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার প্রকল্পও একই অবস্থায় পতিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারিশিল্প কারখানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার প্লান্ট নির্মাণ কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি) এর অধীনে পরিচালিত ১৪টি চিনিকলে একটি করে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি প্লান্ট) নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। ‘১৪টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন প্রকল্প’ এর আওতায় ২৩.০২.২০২০ তারিখে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি) ৫ম লটে ঢাকার এবিএম ওয়াটার কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে রংপুর চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি প্লান্ট) নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করে।

কিন্তু নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ওই বছর ডিসেম্বরে ‘আধুনিকায়নের পর পুনরায় চালু করা হবে’ মর্মে এ চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এই প্লান্টটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৫১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ২০২১ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও চিনিকল বন্ধ থাকায় এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। ফলে কাগজে-কলমে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও একদিনের জন্যেও প্লান্টটির বাস্তব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শিল্প মন্ত্রণালয় গাইবান্ধা জেলার রংপুর চিনিকল ছাড়াও পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড়, দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ, রংপুর জেলার শ্যামপুর, পাবনা জেলার দাশুরিয়ার পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের ঘোষনা দেয়। এর ফলে এই ছয়টি চিনিকলের নবনির্মিত বর্জ্য পরিশোধনাগারগুলো (ইটিপি প্লান্ট) ব্যবহারের অভাবে পড়ে থেকে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। রংপুর চিনিকলের প্লান্টটির নির্মাণ কাজ কাগজে-কলমে শেষ হলেও একদিনের জন্যেও এর কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
রংপুর চিনিকলের আখচাষি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হোদা আক্ষেপ করে বলেন, অন্য অনেক চিনিকলের চেয়ে এখনও অধিক আখ উৎপাদন হয় এই চিনিকল এলাকায়। অথচ এখান থেকে সংগ্রহের পর ওই আখ মাড়াইয়ের জন্য জয়পুরহাট চিনিকলে নিয়ে যেতে পরিবহন বাবদ লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। অন্য কারখানার চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ও নবনির্মিত ইটিপি প্লান্ট সমৃদ্ধ এই চিনিকলটির আখমাড়াই কার্যক্রম আবার চালু করলে এখানকার কৃষক-শ্রমিকরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে।
রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা জানান, বিগত ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আফরোজা বেগম পারুল সইকৃত এক চিঠির মাধ্যমে বিগত সরকারের আদেশে আখমাড়াই স্থগিত ছয়টি চিনিকলের মাড়াই বন্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তিন ধাপে পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও চিনিকলগুলো চালুর উদ্যোগ না নেয়ায় আখচাষিসহ সংশ্লিষ্টরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইটিপি প্লান্টগুলোর জন্য হলেও রংপুর চিনিকলসহ বন্ধ ছয়টি চিনিকল আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা এখন সময়ের দাবি।
রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ শাহিনূল ইসলাম করতোয়াকে বলেন, বর্তমানে চিনিকলের আখমাড়াই বন্ধ থাকায় ইটিপি প্লান্টটি কাজে আসছে না। তবে নতুন করে চিনিকলটির আখমাড়াই চালু হলে প্লান্টটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153807