বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হামিদুল হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন, খুন করে আপন দুই ভাতিজা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : শেরপুরের ধান ব্যবসায়ী হামিদুল হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উম্মোচন এবং আসামি গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আপন দুই ভাতিজা রাকিবুল হাসাম সিয়াম (১৬) এবং গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসানকে (২১) উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে নিহতের আপন ভাতিজা।
শেরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভোরে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মৃত মমতাজ মন্ডলের ছেলে হামিদুল মন্ডলের লাশ জমির মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাফিয়া খাতুন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) সজিব শাহরিনের নেতৃত্বে তদন্তে নামে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফ হাসান।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে রাকিবুল হাসান সিয়ামকে গ্রেফতার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অপর আসামি আতিক হাসানকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা এই হত্যাকান্ডে জড়িত বলে স্বীকার করে।
এরপর তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাদেরকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি মই, কিছু রশিসহ অন্যান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় ভাতিজা আতিকের নজর ছিল নিঃসন্তান চাচার সম্পত্তির ওপর। কিন্তু ছয়মাস আগে চাচা নতুন বিয়ে করায় আতিক শঙ্কিত হয়ে পড়ে, যদি চাচার ছেলে সন্তান হয় তবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।
অন্যদিকে, ছোট ভাতিজা সিয়ামের মুরগির খামারে কিছুদিন আগে বিষ প্রয়োগের কারণে ২৭শ’ মুরগি মারা যায়। সিয়ামের ধারণা ছিল এই কাজ তার চাচা হামিদুলই করেছেন। এতে তারা চাচাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১০ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশে বেগুন ক্ষেতে আব্দুল হামিদকে একা পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আতিক ও সিয়াম। এরপর গরুর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে ধরা হয় চাচার গলা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা একটি বাঁশের মই ব্যবহার করে লাশটি টেনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে চাচার জমিতেই ফেলে যায়।
তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে একটি বাঁশের মইয়ের ভাঙা টুকরো পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে খোঁজ করতে গিয়ে সিয়ামের বাড়িতে ভাঙা মইটির সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর চাচার জানাজা শেষে সিয়ামের সাথে কথা বলার সময় তার হাত-পা অস্বাভাবিক কাঁপতে থাকে। এতেই পুলিশের সন্দেহ চূড়ান্ত রূপ নেয়।
জানা গেছে, হামিদুল এর আগে আরো দু’টি বিয়ে করলেও কোন ছেলে সন্তান নেই। শুধুমাত্র দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি ছেলে সন্তানের আশায় ছয়মাস আগে তৃতীয় বিয়ে করেন। এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, হত্যাকন্ডের সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানা যাবে এবং কী কারণে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে সেটিও বেরিয়ে আসবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153755