বিএনপি নেতার নিকাববিরোধী বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল ঢাবি শিবির
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাখা বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাববিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, মুসলিম নারীদের নিকাব পরিধান নিয়ে তার বক্তব্য কুরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত একটি বিধানের প্রতি অবমাননাকর ও আপত্তিকর।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান সেক্রেটারি আশিকুর রহমান
প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নিকাব কোনো পশ্চাদপদতা বা উপহাসের বিষয় নয়; বরং এটি কুরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত পর্দা বিধানের একটি সচেতন, আত্মমর্যাদাশীল ও সম্মানজনক অনুশীলন। মুসলিম নারীরা নিকাব পরিধান করেন তাদের ঈমান, আত্মপরিচয়, নৈতিকতা ও স্বাধীন পছন্দের ভিত্তিতে।
তারা আরও বলেন, নিকাব মুসলিম নারীর ইসলামী পরিচয়, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতীক। এ বিষয়ে কটাক্ষ করা শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করা এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে অবমাননার শামিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বক্তব্যকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উপনিবেশিক মানসিকতা, বৈষম্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিকাবী ছাত্রীদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ, যা কাঠামোগত ইসলামোফোবিয়াকে স্পষ্ট করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিকাবী ছাত্রীদের বিরুদ্ধে যে প্রশাসনিক হয়রানি, সামাজিক অবমাননা ও কাঠামোগত বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলমান—এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সেই নিপীড়ন সংস্কৃতিকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেয় এবং আরও উসকে দেয় বলে মন্তব্য করেন ছাত্রশিবির নেতারা।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দাবি জানায়—বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কর্মক্ষেত্র ও গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হেইট ক্যাম্পেইন বন্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
'সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন-নিকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো তখন নেকাব পরতো।’
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153652