রংপুরে আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: রংপুরে টানা কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে আলু ক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাইট বা আলুর মড়ক রোগ। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগে আক্রান্ত গাছের পাতায় কালচে দাগ ও ফোসকার মতো ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, আলুর চারা যখন সতেজ হয়ে সবুজ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে লেট ব্লাইট বা পাতার মড়ক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।
পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলু চাষে লোকসান হয়েছিল। এ বছর অল্প পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবারও আলুতে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রংপুর জেলায় ৫৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১২ হাজার ৫০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৭ হাজার ১শ’ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে।
রোগের লক্ষণ সম্পর্কে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গাছের গোড়ার দিকের পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা, হালকা সবুজ গোলাকার বা বিভিন্ন আকারের দাগ দেখা যায়। পরে এ সব দাগ দ্রুত কালো রঙ ধারণ করে এবং পাতা পচে যায়। সকালে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো জীবাণু দেখা যায়।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাতদিন পরপর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে এবং গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যদি ফসল ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে জমিতে সেচ বন্ধ করে চার থেকে পাঁচদিন পরপর সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153405