২০ ম্যাচে গোলশূন্য, চার কার্ড ভিনিসিয়ুসের
একজন উইঙ্গারের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। পাশাপাশি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, অর্থাৎ অ্যাসিস্ট করাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এই মানদণ্ডে একেবারেই হতাশাজনক।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা টানা ২০ ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। এই সময়ে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা মাত্র তিনটি। গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান না রাখলেও শাস্তির খাতায় নাম লিখিয়েছেন বেশ নিয়মিতভাবেই। এই ২০ ম্যাচে তিনি চারটি হলুদ কার্ড দেখেছেন।
ভিনিসিয়ুসের সর্বশেষ গোলের জন্য ফিরে যেতে হবে প্রায় ৬০ দিন পেছনে। গত বছরের ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের জার্সিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। এর আগে ৫ অক্টোবর লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রিয়ালের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন। এরপর থেকেই গোল যেন খুঁজে পাচ্ছেন না ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
ফর্মহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠের উত্তেজনা ও আচরণগত বিতর্ক। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তিনি একাধিকবার নিজের দলের কোচ, প্রতিপক্ষ কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, যা রিয়াল শিবিরে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকোতে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয় ভিনিসিয়ুসকে। কোচ জাবি আলোনসোর এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তিনি। রদ্রিগোকে নামানোর সিদ্ধান্তে প্রকাশ্য বিরক্তি দেখান ভিনিসিয়ুস। সাধারণত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেও সেদিন তিনি তা করেননি। কোচের দিকে না তাকিয়েই সরাসরি টানেলের দিকে চলে যান। পরে ফিরে এলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট ছিল।
সর্বশেষ স্প্যানিশ সুপারকোপার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান তিনি। ম্যাচ চলাকালীন সিমিওনের মন্তব্যে উত্তেজিত হয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিধারী এই তারকা।
গোল নেই, ফর্ম নেই—তার ওপর আচরণগত বিতর্ক। সব মিলিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য সময়টা যে মোটেও স্বস্তির নয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153332