গায়রে মাহরাম নারীর লাশ বহন করা যাবে কি?

গায়রে মাহরাম নারীর লাশ বহন করা যাবে কি?

প্রশ্ন: পুরুষের জন্য গায়রে মাহরাম নারীর লাশ বা লাশের খাটিয়া বহন করার বিধান কী?

উত্তর: জীবিত অবস্থায় যেহেতু কামভাবের সঙ্গে গায়রে মাহরাম নারীর শরীর স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, নারীর লাশও অপ্রয়োজনে গায়রে মাহরাম পুরুষদের স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তাই কোনো নারীর মৃত্যুর পর তার মাহরাম পুরুষরা থাকলে খাটিয়া-কফিন ছাড়া লাশ বহন করা ও কবরে নামানোসহ স্পর্শ করার প্রয়োজন হয় এমন কাজগুলো মাহরাম পুরুষদেরই করা উত্তম।

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব বাদায়েউস সানায়ে’-তে বলা হয়েছে, নারীর লাশ কবরে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে তার মাহরাম আত্মীয়দের অন্যদের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ জীবিত অবস্থায় তার শরীর স্পর্শ করা তাদের জন্য বৈধ ছিল, মৃত্যুর পরও তেমনই। আর যদি কোনো মাহরাম আত্মীয় না থাকে, তবে পরপুরুষদের দ্বারা তাকে কবরে শায়িত করায় কোনো অসুবিধা নেই। এই কাজে নারীদের উপস্থিত হওয়া আবশ্যক নয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/৩৫৮)

কিন্তু স্পর্শ না করে খাট বা কফিনসহ নারীর লাশ বহন করা গায়রে মাহরাম পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয়ও নয়। তাই খাট বা কফিনসহ নারীর লাশ মাহরাম পুরুষরা থাকলেও গায়রে মাহরাম পুরুষরাও বহন করতে পারে।

লাশ কবরস্থানে নেওয়ার সুন্নত পদ্ধতি

কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য মরদেহের খাট বহন করার সুন্নত পদ্ধতি হলো, চার ব্যক্তি খাটের চারটি পা ধরে খাট বহন করবে এবং খাট বহনে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে কাঁধ পরিবর্তন করে খাটের চারটি পা কিছুক্ষণ কাঁধে নেবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি লাশ বহন করে, সে যেন খাটের চারদিকই ধারণ করে; এটা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তারপর সে চাইলে আরও ধরতে পারে অথবা ছেড়ে দিতে পারে। (সুনান ইবনে মাজা: ১৪৭৮)

এই সুন্নাহ অনুসরণের জন্য যে ব্যক্তি প্রথম সামনের ডান পা কাঁধে নিয়েছেন, কিছুক্ষণ পর তিনি কাঁধ পরিবর্তন করে পেছনের ডান পা ডান কাঁধে নেবেন, এরপর সামনের বাম পা বাম কাঁধে নেবেন এবং শেষে পেছনের বাম পা বাম কাঁধে নেবেন।

মৃত ব্যক্তিকে গোরস্থানে নিয়ে যাওয়ার পথে এভাবে কাঁধ পরিবর্তন করার প্রয়োজনে যে কয়বার থামতে হয় থামবে। পৃথকভাবে তিনবার থামা সুন্নাহ বা সওয়াবের কাজ নয়।

গ্রামাঞ্চলে অনেকে মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনবার থামাকে সুন্নাহ মনে করেন, এটা সঠিক নয়।

জানাজার নামাজ ও দাফনে অংশগ্রহণ করার ফজিলত

জানাজার নামাজ পড়া ও জানাজার সাথে গিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফনের কাজে অংশগ্রহণ করা পৃথক সওয়াবের কাজ, হাদিসে এই দুটি আমলেরই অপরিসীম সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যাক্তি কোনো জানাজার নামাজ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত মরদেহের সাথে উপস্থিত থাকবে, সে এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব পাবে, আর যে ব্যক্তি মরদেহের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে, সে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব পাবে। কেউ জিজ্ঞাসা করল, দুই কিরাতের পরিমাণ কতটুকু? তিনি বললেন, দুটি বিশাল পর্বতের সমান। (সহিহ বুখারি: ১৩২৫)

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/153270