কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) সংসদীয় আসনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনা চলছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙল) থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেএম ফজলুল মন্ডল। অপরদিকে তার সহধর্মিণী মোছা. শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যদিও কেএম ফজলুল মন্ডলের দাবি, তাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে শেফালী বেগমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আইনি দৃষ্টিতে ফজলুল মন্ডল এখনও তার স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য থাকলেও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বহাল রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। এতে একদিকে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখলেও রাজিবপুর উপজেলার আমিনুল ইসলাম, এরশাদুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলার হুমায়ুন কবির, মোসলেম উদ্দিনসহ একাধিক ভোটার জানান, তারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেবেন। গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ আসনের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, আইনি অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত নির্বাচনি অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ই নির্ধারণ করবে এর পরিণতি।
কুড়িগ্রামের তিন উপজেলা (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে চিলমারী উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০, রৌমারী উপজেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ ও রাজিবপুর উপজেলায় ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152956