ঘন কুয়াশায় ক্ষতির শঙ্কায় বগুড়ার আলুচাষিরা
স্টাফ রিপোর্টার : পড়তি দামেও চলতি মৌসুমে বগুড়ায় আলুর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনায় স্বস্তিতে ছিলেন জেলার চাষিরা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘনকুয়াশা আর তীব্র শীতে আলুগাছের প্রচলিত লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষতি থেকে বাঁচতে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক-দেড় মাস আগে লাগানো আলু বীজ থেকে এখন ক্ষেত ছেয়ে গেছে সবুজ পাতায়। কনকনে শীতেও এতদিন আলু ক্ষেত ছিল রোগবালাই মুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘন কুয়াশায় আলুগাছে লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগে আক্রান্তের কৃষকের চোখেমুখে চিন্তার ছাপ দেখা দিয়েছে। এজন্য ক্ষেত সতেজ রাখতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ সাত দিন আবার কেউ পাঁচদিন পরপর নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করছেন। আলু জমির অন্যান্য পরিচর্যাও বাড়িয়েছেন চাষিরা।
আলুচাষিরা বলছেন, ঘুন কুয়াশা ও তীব্র শীত এবার আলুর ফলন নিয়ে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কুয়াশা এমনভাবে পড়তে থাকলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। তারা বলছেন, প্রতি বছরই কীটনাশক, সারসহ চাষাবাদের বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক খরচ বাড়ে। কিন্তু সেই তুলনায় গত বছরসহ এবছর আলুর দাম নেই বললেই চলে। তারপরেও তারা ভালো দাম না পাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই আলু চাষ করেছেন। তার ওপর যদি ঘন কুয়াশায় ক্ষেত রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়, তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ১৭ মেট্রিকটন ফলন পাওয়া গেছে। এ বছর ৫৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ মেট্রিকটন। আর গত বছর চাষ হয়েছিল ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, আলুগাছের লেট ব্লাইট খুবই প্রচলিত একটি সমস্যা। ঘুন কুয়াশার কারণে প্রতি বছরই এই রোগ দেখা দেয়। এটি নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে নিয়মিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করলে কুয়াশা থেকে আলু ক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমরা সেই পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষকরা যদি সঠিক নিয়মে স্প্রে করা অব্যাহত রাখে তাহলে ফলন ভালো হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152945