শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস পৌঁছায় না তিস্তার চরবাসীর কাছে

শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস পৌঁছায় না তিস্তার চরবাসীর কাছে

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : উত্তরবঙ্গের চরাঞ্চলে শীত মৌসুম এলেই বাড়তি দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রংপুরের তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের বাসিন্দারা কখন শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে বা কখন তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো সতর্কবার্তা পান না।

ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। একই সাথে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

চরবাসীরা জানান, টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস তাদের কাছে খুব কমই পৌঁছায়। অনেক চর এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, আবার অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন না।

ইউনিয়ন পর্যায়ে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার তথ্য বা শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার না হওয়ায় শীত শুরু হওয়ার পরই মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। এতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্যমতে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিস্তার চরাঞ্চলে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি। কাঁচা ঘরবাড়ি, টিনের চাল, বাতাস ঠেকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং ঘরের ভেতরে পশুপাখি রাখার ফলে ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে শীতের প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

কেউ অসুস্থ হলে তিস্তা নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় নৌকা না পাওয়া কিংবা ঘন কুয়াশার কারণে যাতায়াত বন্ধ থাকায় চিকিৎসা পেতেও বিলম্ব ঘটে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার চরম ওঠানামা বেড়েছে, যা শীত ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চর এলাকার কৃষক নওশা মিয়া(৫৫) বলেন, শীতের কষ্ট কমাতে শুধু কম্বল দিলেই হবে না। কৃষকদের জন্য সময়মতো তথ্য ও সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

আগাম শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা পেলে ফসল রক্ষা করা যেত এবং ক্ষতিও কমানো সম্ভব হতো। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকরাও বাড়তি সংকটে পড়ছেন। টানা কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় আলু, সরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য শীতকালীন সবজিতে রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, শীতকালীন ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস চরাঞ্চলের কৃষকদের জানানো হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152591