বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের পর্দা উঠছে আগামীকাল
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর উদ্বোধন করা হবে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৫ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ- চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চম বারের মতো মেলার এ আসর বসতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মেলা বসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ৩০তম আসর বসতে যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে। দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়।
ইপিবি মেলা ও প্রদর্শনী বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) ওয়ারিশ হোসাইন দেশের এক গণমাধ্যমকে বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে, ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা মেলার উদ্বোধন করবেন কিনা তা সঠিক করে এখনও বলা যাচ্ছে না। কারণ তার প্রোগ্রামের শিডিউল অনেক আগে থেকেই করা থাকে। একটি শিডিউল যেহেতু মিস হয়েছে। তাই এখন প্রধান উপদেষ্টাই উদ্বোধন ঘোষণা করবেন কি না সঠিক করে তা বলা যাচ্ছে না।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিংগেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।