যে দেশে ১৩ মাসে হয় বছর !

যে দেশে ১৩ মাসে হয় বছর !

বিদায় নিয়েছে ইংরেজি ২০২৫ সাল। এরই মধ্যে নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব। তবে আফ্রিকার একটি দেশে এই নতুন বছরের উচ্ছ্বাস নেই। দেশটির নাম ইথিওপিয়া।

তবে এটি কোনও ট্র্যাজেডির কারণে নয়। এর নেপথ্যের কারণ হলো ইথিওপীয় ক্যালেন্ডার পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে রয়েছে।

পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডারে পার্থক্যের কারণ, যিশু খ্রিষ্টের জন্মবর্ষ গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্য। ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে ক্যাথলিক চার্চ তাদের হিসাব সংশোধন করলেও ইথিওপিয়ান অর্থডক্স চার্চ তা করেনি। ফলে ইথিওপিয়ায় নববর্ষ পালিত হয় পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের ১১ সেপ্টেম্বর, আর অধিবর্ষে (লিপ ইয়ার) ১২ সেপ্টেম্বর।

ইথিওপিয়ায় ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে থাকে। আর বছরের শেষ তথা ১৩তম মাসে থাকে পাঁচ বা ছয় দিন, এটা অবশ্য অধিবর্ষের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটিতে সময় গণনাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্নভাবে করা হয়। দিনকে দুটি ১২ ঘণ্টার ভাগে ভাগ করা হয়, যার শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে। তাই মধ্যদুপুর এবং মধ্যরাতে ঘণ্টার কাঁটা থাকে ছয়ের ঘরে। তাই কেউ যদি আপনাকে আদ্দিস আবাবায় সকাল ১০টায় কফি খেতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিকাল ৪টায় হাজির হয়, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার কেবল সময় গণনার একটি পদ্ধতিই নয়, বরং এটি দেশটির ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক গর্বের পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলালেও নিজেদের ‘সময়ের’ ঐতিহ্যকে এভাবেই ধরে রেখেছে আফ্রিকার দেশটি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152402